
ক্ষুদীরাম দাস:
বাংলার জাতীয় ইলিশ!
ইলিশের বাড়ি তো চাঁদপুর,
বাংলা জানে-সবাই জানে-স্বাদে বেশ!

পদ্মা আর মেঘনা মিলে যেখানে একাকার
সেখানে চাঁদপুর শুয়ে আছে নদীর কোলে
রূপালি ঝিকিমিকি একটা শহর
যার রক্তে মিশে ইলিশের গন্ধ।
ভোর চারটায় ঘাট জেগে ওঠে
জেলেদের পায়ের শব্দে, দড়ির টানে
জাল উঠে আসে ভারী হয়ে
প্রতিটি ফাঁকে চাঁদের আলোর মতো ঝকঝক করে ইলিশ
বড়স্টেশন মাছঘাটে হাঁকডাক
“এই যে দ্যাখো, এক কেজি দশ গ্রাম!”
মা ইলিশের পেটে সোনালি ডিমের সারি
ক্রেতার চোখে লোভ আর ভালোবাসা মেশানো।
এখানে ইলিশ শুধু মাছ নয়
একটা জীবন্ত ঐতিহ্য
বিয়ের আসরে, মৃত্যুর পরে
প্রিয়জনের হাতে।
ইলিশের ঝোল না উঠলে অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ
রান্নাঘরে সর্ষের ঝাঁঝ
কাঁচা লঙ্কার ধোঁয়া
ইলিশের গা থেকে উঠে আসে
সেই গন্ধ যা’ শৈশবকে ফিরিয়ে আনে
বর্ষায় নদী ফুলে ওঠে
সমুদ্রের মেয়ে মা ইলিশ ছুটে আসে
ডিম ছাড়তে, প্রজনন করতে
চাঁদপুর তার জন্য অপেক্ষায় থাকে
অক্টোবর গেলে নিষেধাজ্ঞা শেষ
আবার জালে জালে রূপালি ঝড়
ঘাটে ঘাটে পড়ে থাকে বরফের খাঁচায়
যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কলকাতা, লন্ডন।
ইলিশচত্বরে দাঁড়িয়ে দু’টো মাছের ভাস্কর্য
চাঁদপুরের গর্ব
রাতে আলো পড়ে তাদের গায়ে
যেন সত্যি সত্যি লাফ দিয়ে উঠবে
কখনো কখনো নদী কমে যায়
জাল খালি ফেরে
তবু চাঁদপুর হাসে
কারণ জানে, আবার আসবে তার প্রিয়তমা
ইলিশ না থাকলে চাঁদপুর অচেনা
চাঁদপুর না থাকলে ইলিশ এতিম
দু’টো একই দেহের দুই প্রাণ
একই নদীর দুই তীর
আমি দূর থেকে শুনি
চাঁদপুরের বাতাসে ভেসে আসে
ইলিশের সেই অমলিন গন্ধ
যা’ কখনো মরে না।
২১ নভেম্বর ২০২৫














