ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ: কেবল জরিমানা নয়, চাই স্থায়ী সমাধান

সম্পাদকীয়:

প্রিয় সময়ে ‘চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি একটি জনসচেতনতামূলক। নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম। কিন্তু মুনাফালোভী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষের এ অধিকারটি আজ হুমকির মুখে। সম্প্রতি চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, তা’ জনস্বাস্থ্যের জন্যে যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রটিও তুলে ধরে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) চাঁদপুরের বাবুরহাট বাজার ও দক্ষিণ রালদিয়া এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ না থাকায় ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কেন এ অভিযান জরুরি? বেকারি পণ্যÑযেমন বিস্কুট, কেক, বা রুটিÑসমাজের সব শ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা প্রচুর পরিমাণে ভোগ করে থাকে। সংবাদে উঠে এসেছে যে, ‘ইসলামিয়া বেকারি’ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করছিলো। অন্যদিকে ‘লোকমান বেকারি’ ও ‘মা বাবার দোয়া বেকারি’ কোনো ধরণের তারিখ ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করছিলো। এটি কেবল আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের সাথে এক প্রকার প্রতারণা। মেয়াদোত্তীর্ণ বা অস্বাস্থ্যকর খাবার দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধার কারণ হতে পারে।

শুধুমাত্র জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়। আমরা প্রায়শই দেখি, অভিযানের পর ব্যবসায়ীরা জরিমানা পরিশোধ করে পুনরায় একই অসাধু উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের সুপারিশগুলো-অভিযানগুলো যেন কেবল উৎসবকেন্দ্রিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়। নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে যেন ব্যবসায়ীরা সবসময় সতর্ক থাকেন। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে তারিখবিহীন বা খোলা খাবার কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা বারবার একই অপরাধ করবে, তাদের ক্ষেত্রে জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান সিলগালা বা লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ তৎপরতাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এমন অভিযান জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনে। আমরা আশা করি, জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে নৈতিকতার উন্মেষ ঘটবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনের কাজ নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।

২৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি.

You might like