বিড়াল কবে থেকে মানুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিল?

 লাইফস্টাইল ডেস্ক :

সঙ্গী হিসেবে মানুষকে বেছে নিতে বেশ খানিকটা সময় নিয়েছিল বিড়াল। নতুন এক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলছে, বিড়ালের বন্য শিকারি থেকে আদুরে গৃহপালিত পোষা প্রাণীতে রূপান্তরের বিষয়টি ঘটেছে আগের ধারণারও বেশ পরে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোতে পাওয়া হাড়ের নমুনার ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক হাজার বছর আগে বিড়াল মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর এটির সূচনা লেভান্ত অঞ্চলে নয়, বরং উত্তর আফ্রিকায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগর লারসেন বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে বিড়ালের যে সম্পর্ক এখন দেখা যায়, এটির সূচনা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার বছর আগে। ১০ হাজার বছর আগে নয়।’

গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সব গৃহপালিত বিড়ালেরই উদ্ভব আফ্রিকান বন্য বিড়াল থেকে। কখন, কোথায় এবং কীভাবে তারা বুনো ভাব কাটিয়ে মানুষের ঘনিষ্ঠ হলো, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন অনেক দিনের।

এই রহস্য সমাধানে গবেষকরা ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও আনাতোলিয়ার প্রত্নস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিড়ালের হাড়ের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে, প্রথমে হাড়ের বয়স নির্ণয় ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরে তা আধুনিক বিড়ালের জিনগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

নতুন তথ্য-উপাত্ত বলছে, বিড়ালের গৃহপালিত প্রাণীতে রূপান্তর লেভান্ত অঞ্চলে শুরু হয়নি। বরং কয়েক হাজার বছর পরে, উত্তর আফ্রিকার কোথাও এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনার সঙ্গে প্রাচীন মিশরের যোগ থাকতে পারে বলেও ধারণা দেন অধ্যাপক লারসেন।

প্রাচীন মিশরে বিড়াল ছিল অত্যন্ত সম্মানিত একটি প্রাণী। প্রাচীন মিশরীয় শিল্পকলা ও মমিতে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়।

মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বিড়াল বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজে পোষা প্রাণী হিসেবে এবং ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে তাদের বেশ কদর ছিল। ইউরোপে বিড়াল পৌঁছায় মাত্র প্রায় ২ হাজার বছর আগে। বিড়ালগুলো ইউরোপ ঘুরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় রোমানদের সঙ্গে। এরপর সিল্ক রোড ধরে চীনে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সবখানেই পাওয়া যায় বিড়াল।

গবেষণায় আরও একটি মজার তথ্য মিলেছে। গৃহপালিত বিড়ালের আগেও চীনে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিল এক প্রজাতির বন্য বিড়াল। এদের নাম ছিল ‘লেপার্ড ক্যাট’। বিড়ালগুলোর গায়ে চিতাবাঘের মতো দাগ থেকেই এই নাম। তারা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে চীনে মানুষের পাশাপাশিই বসবাস করত।

বেইজিংয়ের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শু-জিন লুও বলেন, ‘মানুষ ও লেপার্ড ক্যাটের সম্পর্ক ছিল মূলত সহাবস্থানমূলক। দুই প্রজাতিই পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করত। লেপার্ড ক্যাটরা মানুষের কাছ থেকে উপকৃত হতো, আর মানুষও তাদের ব্যবহার করত প্রাকৃতিক ইঁদুর-নিয়ন্ত্রক হিসেবে।’

অবশ্য এই লেপার্ড ক্যাট পরে কখনোই গৃহপালিত হয়নি। এখনো এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন্য অবস্থায় এদের দেখা মেলে। আশির দশকে লেপার্ড ক্যাটের সঙ্গে গৃহপালিত বিড়ালের সংকরায়ণে উদ্ভব হয় ‘বেঙ্গল ক্যাট’ নামের নতুন একটি জাত।

মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড

You might like