

সম্পাদকীয়
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিদায় নিয়েছে হিমেল হাওয়া, আর দিগন্তে উত্তাপ ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে আগন্তুক গ্রীষ্ম। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ সংবেদনশীল। দিনের বেলায় তপ্ত রোদ আর শেষ রাতে হালকা ঠান্ডার এই খামখেয়ালি আচরণে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এই মুহূর্তে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এই সময়ে সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানীয় গ্রহণ। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সারাদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি তাজা ফলের রস পান করা প্রয়োজন। রাস্তার ধারের খোলা শরবত বা বাসি খাবার এই সময়ে টাইফয়েড, জন্ডিস বা ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার পরিহার করে সহজপাচ্য ও টাটকা শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
শারীরিক সতর্কতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি। রোদ থেকে ফিরেই হঠাৎ করে এসির নিচে বসা বা খুব ঠান্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ শরীরের তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন সরাসরি ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় সুতির আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন এবং ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা শ্রেয়। পরিশেষে, ঋতু বদলের এই সময়ে সামান্য অবহেলা বড় ধরনের অসুস্থতার কারণ হতে পারে, তাই যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
প্রকাশিত : শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি.











