

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় কর্মরত এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে ঘিরে নারীসঙ্গ ও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের তীর ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের দিকে, যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে অবস্থানকালে স্থানীয়দের নজরে আসেন ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা বাসাটি ঘিরে ফেলে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগও ওঠে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল তৎপর হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গভীর রাতে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে হরিণমারীর ওই বাসায় নিয়মিত আড্ডা ও মাদকসেবনের আসর বসত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘ
টনার বিষয়ে অভিযুক্ত সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনার সত্যতা দাবি করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট নারীকে দীর্ঘদিনের মাদকসেবী বলেও উল্লেখ করেছেন। এদিকে অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
















