ফরিদগঞ্জে খাল দখল করে ৩১ অবৈধ দোকান, পানি প্রবাহে বাধা

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজারে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি দখল করে এভাবে স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে সরকারের খাল খনন প্রকল্প ও স্বাভাবিক পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়নের চৌরাঙ্গী বাজারের মূল সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে খালটি প্রবাহিত হয়েছে। দুই ইউনিয়নের অংশে পাকা-আধাপাকা ৩১টি দোকান অবৈধভাবে নির্মাণ করায় পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ১৩ জন ব্যক্তি এসব দোকান নির্মাণ করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় তারা কীভাবে মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকদের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে প্রভাব খাটিয়ে খালের জায়গা দখল করে এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের তালিকায় রয়েছেন—প্রয়াত চেয়ারম্যান মহসিন পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগ নেতা মহিন উদ্দিন, মনির মোল্লা, ইমান মোল্লা, বিএনপি নেতা শাহীন মোল্লা, জয়নাল মিজি, শহীদ মোল্লা, বাবুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, খোকন মোল্লা, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর শেখ, মনা পাটওয়ারী ও বুলু মাস্টারসহ আরও অনেকে।

অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের দাবি, তারা সরকার থেকে লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কারও কাছেই কোনো ধরনের লিজ নেওয়ার কাগজপত্র নেই।

অবৈধ দোকান মালিকদের মধ্যে ‘বাবুল ইলেকট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লা বলেন, “সম্প্রতি কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার জন্য মহসিন পাটওয়ারীর ছেলে পাভেল পাটওয়ারীকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনিই সব জানেন।” তবে দোকান নির্মাণের অনুমতি বা বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ফজলে মওলা বিন মহসীন (পাভেল) পাটওয়ারীর কাছে বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমানে লিজের কোনো প্রমাণপত্র নেই। তবে আশা করছি, আমরা লিজ পাব।” দোকানপ্রতি ১০ হাজার টাকা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, “লিজ নিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। খাল খননের জন্য সম্মিলিতভাবে একটা টাকা তোলা হয়েছে, এটা সত্য।”

আরেক অবৈধ দোকান মালিক বুলু মাস্টার বলেন, “আমার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কাগজ ঠিক করার কথা বলে আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি দেইনি। আমি তাদের বলেছি, সরকার চাইলে উচ্ছেদ করুক, আমি আর টাকা দেব না।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেতু কুমার বড়ুয়া বলেন, “খালের অংশ লিজ দেওয়া যায় না। কৃষকের পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অবৈধ স্থাপনাগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “খালের অংশ লিজ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। প্রতিবেদনটি অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি
.

You might like

About the Author: priyoshomoy