গুলিশাখালী সেতু সড়কে বিশাল গর্ত, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার গোছখালী বাজারসংলগ্ন গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী যানসহ মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে গোছখালী বাজারসংলগ্ন গুলিশাখালী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র তিন বছরের মাথায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি অংশ দেবে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে গর্তটি ক্রমেই বড় হচ্ছে। যদিও ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয়ভাবে কিছু বাঁশ ও গাছের ডাল দিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবুও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে যায়। তখন গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ছে।”

গোছখালী বাজারের ব্যবসায়ী এনসান আলী বলেন, “এটি আমতলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

অটোরিকশাচালক মহিবুল্লাহ বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই চলাচল করি।”

চালক মো. রাব্বি হোসেন বলেন, “গর্তে পড়ে যাত্রীসহ আহত হয়েছি। দ্রুত সংস্কার না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।”

ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক মো. বাবুল হোসেন বলেন, “রাতে দুই যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে আমরা আহত হই। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি।”

গোছখালী বাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, “জনস্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা জরুরি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং মানুষের ভোগান্তিও দূর হবে।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “সংযোগ সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গর্তটি আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রকাশিত : শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ খ্রি
.

You might like

About the Author: priyoshomoy