

সজীব খান :
চলতি বছরে বিগত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বর্তমানে এ সরকারের সময়ে প্রথম অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তবে আগে উপজেলা নাকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে তা নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট ভাবে সিদ্ধান্ত না হলেও প্রচারনায় থেমে নেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যাশীরা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নে একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচারনার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, জেলা বিএনপির সদস্য এস এম বাকের খন্দকার, চাঁদপুর সদর উপজেলা শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, চাঁদপুর সরকারি কলেজে সাবেক জি এস আবু তাহের খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম খোকন ,শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, জামাত সমর্থীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা শরীফ উদ্দিন পাটওয়ারীসহ আরো অনেকের নাম আলোচনায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ও সময়ের ব্যবধানে কে হচ্ছেন এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ আলোচনা এখন প্রতিটি মহল্লায় ও চায়ের টেবিলে রয়েছে। তবে এই পর্যন্ত আসন্ন শাহমাহমুদপুর ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ৫জন আলোচনায় থাকলেও জামাত এর একক প্রার্থীর নাম মাঠে আলোচনায় রয়েছে, কে হচ্ছেন শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অভিভাবক , আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তা নির্ধারিত হবে, ভোটাররাও এ নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নিয়েই ভাবছে।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক দুই বারের সভাপতি, জেলা বিএনপির সদস্য এস এম বাকের খন্দকার বলেন, দলের সিদ্ধান্তই বড় সিদ্ধান্ত, একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সেবা করা, আমি ও সেই পথেই হেটে লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের পাশে থাকছি, ভবিষ্যতে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, তৃণমূলে জনগন যদি আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলে, আমি জনগণের দাবি প্রেক্ষিতে মাঠে থাকবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য এবং জেলার মধ্যে অন্যতম মডেল ইউনিয়ন হিসেবে রূপান্তর করতে সার্বক্ষণিক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, ভুমিদশ্যসহ সকল অনিয়নের বিরুদ্ধে কাজ করবো, জনগণের সেবা দোর গোড়ায় পৌঁছিয়ে দিবো, ইউনিয়ন পরিষদে এসে যাতে কোন মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুণতে না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখেই কাজ করা হবে।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ বলেন,শাসক নয়, সেবক হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে জনগণের পাশে থাকতে চাই, নেতা নয়, নীতির প্রশ্নে মানবতার কল্যাণে, কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে, আবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো ইনশাল্লাহ। বিগতদিনে মানুষের কল্যাণে কাজ করায় মানুষ এখনো আমাকে মনে রেখেছেন, মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছি, জনগণের পাশে থেকে সেবা প্রদান করেছি, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, চাঁদপুর হাইমচরের মাটি ও মানুষের নেতা মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক (এমপি) কে বিজয়ী করতে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিজয় নিশ্চিত করেছি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারগুলো তুলে ধরেছেন। আমি নির্বাচিত হলে, আমাদের ইউনিয়নে কোন মাদক ব্যবসায়ী, ইভটিজার, সন্ত্রাসের স্থান হবে না, মাদক ও সন্ত্রাসী হয় ছাড়তে হবে, না হয় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাড়তে হবে,বিগত দিনের দলীয় কর্মকাণ্ড দেখে, বারবার একজন কারা নির্যাতিত ও বিজিপির গুলির নিশানা থেকে বেঁচে যাওয়ার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আশা রাখি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
আবু তাহের খোকন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে, ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি, ছাত্র রাজনৈতিক সময়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের এজিএজ এর দায়িত্ব পালন করেছি, মহামায়া বাজার মসজিদ মাদ্রাসার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি, মহামায়া এলাকায় অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি, মানুষের জন্য রাজনীতি করার অর্থ হলো নিঃস্বার্থভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান করা এবং সমাজকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা। আমিও সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে রয়েছি
তিনি আরো বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নব্যাপী শিক্ষার হার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করবো, খেলাধুলা এগিয়ে নিতে ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উৎসাহসহ খেলাধুলার যাবতীয় ব্যবস্থা করবো, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে সহ অসামাজিক কর্মকান্ড নির্মূলে জোরালোভাবে কাজ করা হবে, ইউনিয়নের কোমলমতি নারী শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য সকল প্রকার ইভটিজিং বন্ধ করা হবে। এছাড়া যোগাযোগ, কৃষি,স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক উন্নয়ন করা ইনশাল্লাহ, বিগত দিনে আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছি, সে বিষয়গুলো দেখে চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা,চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি আশা রাখি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল থেকেই আমাকে মূল্যায়ন করবে।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম খোকন মল্লিক বলেন, আমি গত ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়নের জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে অংশ গ্রহন করেছি,ডিজিটাল কারচুপির কারে আমি পরাজিত হয়েছি, রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আর এই আদর্শ ধারণ করে আমি সঠিক পথেই আছেন। জনগণের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং দেশের সেবা করার জন্য আবার ও আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছি।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী বলেন, আমি দুই দুইবার জনগনের ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এখন পর্যন্ত নিঃস্বার্থ ভাবে জনগনের জন্য কাজ করছি, বর্তমান গ্রাম আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালন করে আসছি, জনগনের জন্য কাজ করছি।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে বহু মামলা হামলার শিকার হয়েছি, রিমান্ডসহকারা বরণ করেছি, চাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনা মোতাবেক রাজনীতি করে যাচ্ছি, তিনি যদি আমাকে দল থেকে মনোনীত করেন তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ মাওলানা শরীফ উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “ইসলামিক আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন গঠনের জন্য কাজ করব ইনশাআল্লাহ্।
ইউনিয়নের কোনো অসহায়, দুস্থ বা নিপীড়িত মানুষ যেন তাদের অধিকার বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। সকল দল-মত,জাতি-বর্ন, পরিহার করে ইউনিয়নবাসী সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করব। সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা নিয়ে প্রকৃত অসহায় মানুষের কল্যানে কাজ করব। বেকারদের কর্মসংস্থান, মেধাবী অসহায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রদান এবং বয়স্কদের জন্য নৈশ বিদ্যালয় ও ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা করব। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করব।
বিগত দিনেও আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি এবং জনগণ ভালোবেসে আমাকে ভোট দিয়েছেন। নেতৃত্ব আল্লাহর দান। আল্লাহ্ তায়ালা যদি আমাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ ও নেতৃত্ব দান করেন, তবে সর্বদা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব, ইনশাআল্লাহ।

















