আমতলীতে প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্ধের দাবিতে কৃষক-ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গোডাঙ্গা প্রবাহমান খালে নেট দিয়ে মাছ চাষ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে মাছ চাষের ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খালপাড়ের বাসিন্দারা।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত খাল থেকে নেট অপসারণ এবং মাছ চাষ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোডাঙ্গা শ্লুইজগেট থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে খালের মধ্যে ঘনজালের নেট দিয়ে বেড়া তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করা হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইরি, বোরো ও রবি মৌসুমে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, খালটি শুধু কৃষিকাজের জন্য নয়, গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজ, গবাদিপশুর গোসল এবং স্থানীয় অনেক জেলে পরিবারের জীবিকার অন্যতম উৎস। তাই প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্ধ করে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জালাল হাওলাদার, মো. হারুন তালুকদার, আলতাফ হোসেন, নওরাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম ও মরিয়ম বেগম।

ভুক্তভোগী মো. হারুন তালুকদার অভিযোগ করেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাস্টারের তত্ত্বাবধানে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালে নেট দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এই খালের পানি দিয়েই আমরা বছরের বিভিন্ন মৌসুমে চাষাবাদ করি। পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আমাদের কৃষি ও জীবিকা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।”

ভুক্তভোগী সহিদ হাওলাদার অভিযোগ করেন, মাছ চাষের প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী জাকির হোসেন তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর বলেন, “শত শত কৃষকের স্বার্থে অবিলম্বে এই খালে মাছ চাষ বন্ধ করা জরুরি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। আফজাল মৃধা ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। খালটি আগে কচুরিপানায় ভরা ছিল। পরিষ্কার করার পর এখন সাধারণ মানুষ খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন। এতে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like