মধ্যরাতে একা থাকা : ক্ষুদীরাম দাস

নিঝুম রাতের প্রহর গুনি,
চারিদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা।
জানালার ধারে একা বসে ভাবি,
জীবনের কত না চাওয়া-পাওয়া কথা।

ঘরের কোণে ঝুলে আছে স্মৃতির ধুলো,
অতীতের সুখগুলো আজ বড়ো অচেনা।
ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দে বাজে,
হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা যত বেদনা।

চাঁদের আলো ম্লান হয়ে মিশে গেছে অন্ধকারে,
আমার আকাশে আজ শুধুই অমাবস্যার রাত।
যাঁদের আমি আপন ভেবে ভালোবেসেছিলাম,
আজ তারা সবাই মুছে ফেলেছে হাতের হাত।

বালিশে ভেজা চোখের জলের দাগ,
কেউ তো দেখেনি এই বুকের ভেতরকার ঝড়।
সবাই তো হাসিমুখে বিদায় নিল একে একে,
একা ঘরে এই জীবনটা হয়ে গেল বড়ো পর।

নিঃসঙ্গতার চাদরে জড়িয়ে ধরি নিজেকে,
বুকের ভেতর কিসের যেন এক হাহাকার।
যে স্বপ্নগুলো একদিন একসাথে বুনেছিলাম,
আজ তার কোনো মানেই নেই তো আর।

রাতের তারাগুলো সাক্ষী আছে আমার কান্নার,
নিদ্রাহীন চোখে শুধু জমে আছে ক্লান্তি।
কোথায় হারাল সেই সোনালী দিনগুলো,
কোথায় হারিয়ে গেল জীবনের সব শান্তি?

স্মৃতির পাতা উল্টে খুঁজি হারিয়ে যাওয়া মুখ,
চোখের কোণে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের ভীর।
কার কাছে বলবো বলো এই মনের গোপন কষ্ট,
কার চোখের জলে ভিজবে আমার এই তীরের তীর?

বাইরে ঝিঁঝিঁ ডাকছে অবিরাম তালে তালে,
আর ভেতরে একা আমি ভাঙছি তিলে তিলে।
অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না কোনোদিনই,
কেউ কি আসবে আবার এই মরুভূমির ভিড়ে?

অন্ধকার ঘরটা যেন গ্রাস করতে চায় আমায়,
নিঃসঙ্গতা জড়িয়ে ধরে সাপের মতো শীতে।
এই কষ্টের কোনো শেষ নেই, কোনো কিনারা নেই,
শুধু একা বেঁচে থাকা এই নির্মম পৃথিবীতে।

ভোরের আলো ফোটার এখনো অনেক দেরি,
বুকের জমানো কষ্টগুলো কেবলই দীর্ঘশ্বাস।
মধ্যরাতের এই একা থাকা বড়ো যন্ত্রণার,
যেখানে থমকে গেছে আমার প্রতিটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy