আমি কুকুর হয়ে বসে থাকি তাহার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে

ক্ষুদীরাম দাস :

মানুষ সামাজিক জীব| সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার আদিম ও বন্য রূপকে ঢাকতে শিখেছে| সে গায়ে জড়িয়েছে ভদ্রতার চাদর, মুখে এঁটেছে হাসিমুখের মুখোশ| কিন্তু সভ্যতার এ মসৃণ চামড়ার ঠিক নিচেই বাস করে অন্য এক আদিম সত্তা| কোনো কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে, স্বার্থের সংঘাতে কিংবা ক্ষমতার দাপটে সেই আসল রূপটি বেরিয়ে পড়ে| প্রখ্যাত এ থিম—”আমি কুকুর হয়ে বসে থাকি তাহার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে”—আসলে মানুষের সেই লুকানো আদিমতা, হিংস্রতা ও প্রকৃত রূপকে চেনার এক দুর্দান্ত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল| নিজেকে আপাত-নত বা তুচ্ছ করে অপর প্রান্তের মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ ও পশুবৃত্তিকে অবলোকন করার এই যে চেষ্টা, তা বর্তমান সমাজবাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক|

মুখোশের আড়ালে মানুষ
আজকের নাগরিক জীবনে আমরা প্রতিদিন শত শত মানুষের মুখোমুখি হই| সুবেশধারী, মার্জিতভাষী এই মানুষগুলোর দিকে তাকালে বোঝার উপায় থাকে না তাদের মনের গহিনে কী খেলা চলছে| প্রত্যেকেই আমরা এক-একটি সামাজিক চরিত্র অভিনয়ে ব্যস্ত| কিন্তু মানুষের এই কৃত্রিম আচরণের ভেতরের সত্যকে জানতে হলে মাঝে মাঝে নিজেকে অহং-শূন্য করতে হয়|

নিজেকে একজন সাধারণ বা তুচ্ছ ‘কুকুর’ হিসেবে কল্পনা করার অর্থ এ নয় যে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া| বরং এর অর্থ হলো, নিজের অহঙ্কার ও সামাজিক অবস্থানকে একপাশে সরিয়ে রেখে একেবারে সাধারণ স্তরে নেমে আসা| যখন আপনি কারও সামনে অত্যন্ত নিরীহ, ক্ষমতাহীন এবং অহঙ্কারহীন হয়ে দাঁড়াবেন, তখনই অপর প্রান্তের মানুষটি তার আসল রূপটি প্রকাশ করে ফেলবে| সে তখন আপনাকে আর প্রতিযোগী ভাববে না, ফলে তার ভেতরের ‘কুকুর’ বা আদিম হিংস্রতা ও অহঙ্কারের রূপটি অবলীলায় বাইরে চলে আসবে|

কুকুর ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক তুলনা
কুকুরকে আমরা সাধারণত প্রভুভক্ত ও বিশ্বস্ত প্রাণী হিসেবে জানি| কিন্তু একই সঙ্গে কুকুরের কিছু সহজাত আচরণ রয়েছে—যেমন সীমানা রক্ষা করার প্রবণতা, খাদ্যের জন্যে লড়াই, অচেনা কাউকে দেখে ঘেউ ঘেউ করা এবং ক্ষমতার প্রকাশ| মানুষের মধ্যেও ঠিক এ আদিম প্রবণতাগুলো রয়ে গেছে, যা আমরা সভ্যতার মোড়কে ঢেকে রাখি|

লোভ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের এক অবদমিত ইচ্ছা প্রতিটি মানুষের ভেতরেই সুপ্ত থাকে| যখন মানুষ ক্ষমতার আসনে বসে, তখন তার ভেতরের এ পশুবৃত্তির প্রকাশ ঘটে সবচেয়ে বেশি| নিজেকে তুচ্ছ করে অন্যের সেই রূপ দেখার এ খেলাটি আসলে এক গভীর সামাজিক পরীক্ষা| আপনি যখন নিজেকে ¯ে^চ্ছায় ছোটো করে রাখেন, তখন সামনের মানুষটি নিজেকে অসীম শক্তিশালী মনে করতে শুরু করে| আর ঠিক তখনই তার ভেতরের আদিম অহংকার ও হিংস্রতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে|

ক্ষমতার দাপট ও ভেতরের রূপ
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সবচেয়ে প্রকট| অফিস আদালত থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন—সবখানেই এক অদৃশ্য ক্ষমতার লড়াই চলছে| এ লড়াইয়ে কে কার চেয়ে ওপরে থাকবে, তা’ নিয়েই চলে যত প্রতিযোগিতা|

ধরা যাক একটি করপোরেট অফিসের কথা| সেখানে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন তার অধস্তন কোনো কর্মচারীকে অত্যন্ত তুচ্ছ মনে করেন, তখন তার আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে| আপনি যদি সেখানে নিজেকে অবলা বা প্রতিরোধহীন হিসেবে প্রকাশ করেন, তবে দেখবেন সেই কর্মকর্তার আসল রূপটি কীরকম ভয়ংকর হয়ে ওঠে| সে তখন আর মানুষ থাকে না, তার ভেতরের ক্ষমতার লোভী ও আধিপত্যকামী ‘কুকুর’টি জেগে ওঠে| সে তখন অন্যকে অবহেলা ও অপমান করে এক ধরনের পাশবিক আনন্দ পায়| মানুষের এ আসল আচরণটি চেনার জন্যেই নিজেকে কখনো কখনো নিষি&ক্রয় দর্শকের ভূমিকায় নিয়ে যেতে হয়|

¯^ার্থের সংঘাত ও মুখোশ উন্মোচন
যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে কোনো ¯^ার্থের সংঘাত না ঘটে, ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই পরম বন্ধু, পরম সজ্জন| কিন্তু যেই মুহূর্তে সামান্য ¯^ার্থের টান পড়ে, অমনি চেনা মানুষের অচেনা রূপটি সামনে চলে আসে|

টাকা-পয়সা, সম্পত্তি বা সামাজিক প্রতিপত্তির প্রশ্নে যখন দু’টি মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ˆতরি হয়, তখন তাদের ভেতরের আদিম রূপটি আর চেপে রাখা যায় না| আপনি যদি সেই দ্বন্দ্বে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেন, তবে দেখবেন অপরপক্ষ কতোটা হিংস্রভাবে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে| সে তখন তার নিজের ¯^ার্থ হাসিলের জন্যে যেকোনো স্তরে নেমে যেতে পারে| এ যে রূপান্তর, এটিই হলো মানুষের ভেতরের সেই আদিম পশুর জাগরণ| এ রূপটি দেখার জন্যেই কখনো কখনো আমাদের শান্ত হয়ে বসে থাকতে হয়, দেখতে হয় লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে|

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আসল আচরণ
আমাদের চারপাশের সম্পর্কগুলো আজ বড্ড ভঙ্গুর| ভালোবাসা, বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সম্পর্কগুলোর ভেতরেও এক ধরনের অদৃশ্য লেনদেনের হিসাব কাজ করে| বর্তমান যুগে মানুষ সম্পর্কের চেয়ে নিজের আত্মকেন্দ্রিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়|

কোনো এক সময় আপনি হয়তো আপনার কোনো প্রিয় বন্ধুর জন্যে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন| কিন্তু একটা সময় যখন আপনি আর তার কোনো উপকারে আসতে পারবেন না, বা নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেবেন, তখন তার আচরণ লক্ষ্য করেছন কি? সে তখন আপনাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করবে, হয়তো বা আপনার অবর্তমানে আপনাকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করবে| নিজেকে নিঃ¯^ বা মূল্যহীন করে দিয়ে যখন আপনি এ আচরণগুলো লক্ষ্য করবেন, তখন বুঝতে পারবেন মানুষের আসল টানটি আসলে কোথায় ছিলো| সে আপনার বন্ধুত্বের প্রতি অনুগত ছিলো নাকি আপনার উপযোগিতার প্রতি—তা’ স্পষ্ট হয়ে যাবে|

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভার্চুয়াল হিংস্রতা
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের আসল রূপ দেখার অন্যতম বড়ো জায়গা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম| পর্দার আড়ালে থেকে মানুষ এখানে তার ভেতরের অন্ধকার দিকগুলো সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করে|

বাস্তব জীবনে যে মানুষটি অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র, ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে সে-ই হয়তো অন্য একজনের পোস্টে গিয়ে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় মন্তব্য করছে| কেন এমন হয়? কারণ সেখানে তার সরাসরি পরিচয় বা সামাজিক শাস্তির ভয় কিছুটা কম থাকে| এ ভার্চুয়াল জগতে আপনি যদি কোনো বিতর্কে অংশ না নিয়ে কেবল শান্ত হয়ে বসে মানুষের প্রতিক্রিয়াগুলো লক্ষ্য করেন, তবে শিউরে উঠতে হবে| মানুষ অপর মানুষের পতন বা ক্ষতিতে কতোটা উল্লাসিত হতে পারে, তা’ এই কমেন্ট সেকশনগুলো না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না| এ নীরব দর্শক হয়ে থাকাটাই হলো মানুষের ভেতরের সেই পশুর আস্ফালন দেখার অন্যতম উপায়|

অহংকার ও আত্মম্ভরিতা
মানুষের পতনের মূল কারণ তার অহংকার| অথচ এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষের অহংকারের শেষ নেই| শিক্ষা, বংশমর্যাদা, অর্থবিত্ত বা রূপের অহংকারে মানুষ অন্ধ হয়ে থাকে|

আপনি যখন কোনো অত্যন্ত ধনী বা প্রভাবশালী মানুষের সামনে গিয়ে নিজেকে সাধারণ একজন দিনমজুর বা অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করবেন, তখন তার চোখের ভাষা লক্ষ্য করবেন| সে আপনার দিকে এমনভাবে তাকাবে যেন আপনি এই পৃথিবীর কোনো আবর্জনা| তার এ অবজ্ঞার চাহনি ও অবহেলাই প্রমাণ করে তার মানবিকতার অবক্ষয় কতোটা নিচে নেমে গেছে| অথচ সে-ই হয়তো জনসম্মুখে বড়ো বড়ো ভাষণ দেয়, মানবতার কথা বলে| এ দ্বিচারিতা মানুষের এক মস্ত বড়ো ˆবশিষ্ট্য| নিজেকে ছোটো করে রাখলে এ দ্বিচারিতা খুব সহজে ধরা পড়ে|

অসহায়ত্ব ও অবহেলার শিক্ষা
বর্তমান সমাজে যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে বা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল, তাদের প্রতি সমাজের আচরণ অত্যন্ত নিষ্ঠুর| রাস্তাঘাটে কোনো ভিক্ষুক বা পথশিশুর সঙ্গে সাধারণ মানুষ কীরকম আচরণ করে, তা’ একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়|

একটি শিশু বা একজন অসহায় মানুষ যখন কোনো সচ্ছল ব্যক্তির কাছে সাহায্যের হাত বাড়ায়, তখন অনেকেই অত্যন্ত রুঢ়ভাবে তাদের তাড়িয়ে দেয়| অথচ সেই মানুষটিই হয়তো কোনো মন্দিরে বা মসজিদে গিয়ে অকাতরে দান করছে ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যে| এ যে ¯^বিরোধিতা, এটিই মানুষের আসল রূপ| মানুষ আসলে দয়া বা করুণা থেকে দান করে না, অনেক সময় সে দান করে নিজের অহংকারকে তৃপ্ত করার জন্যে| আপনি যখন নিজে সেই অসহায় অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন, তখনই বুঝবেন এ সমাজের আসল রূপটি আসলে কতোটা কঠিন ও নির্মম|

নীরবতার শক্তি
“আমি কুকুর হয়ে বসে থাকি…”—এ বাক্যের মধ্যে এক অদ্ভুত নীরবতা ও ˆধর্যের ইঙ্গিত রয়েছে| যেকোনো সত্যকে জানতে হলে তাড়াহুড়ো করলে চলে না| নীরবতা এক পরম শক্তি|

যখন আপনি কোনো তর্কে জড়াবেন না, কারও অপমানের জবাবে পাল্টা আঘাত করবেন না, কেবল শান্ত হয়ে অপর প্রান্তের মানুষের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করবেন, তখন সে ভেবে বসবে আপনি দুর্বল| আর মানুষ যখন প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবে, তখন সে তার সমস্ত শক্তি ও কৌশল প্রকাশ করে ফেলে| সে তখন তার মনের সব নোংরামি ও কুৎসিত পরিকল্পনাগুলো একে একে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে| আর আপনি সেই নীরবতার আড়াল থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপ দেখে নিতে পারেন| এ নীরবতাই আপনাকে মানুষের চরিত্র সম্পর্কে এমন জ্ঞান দেবে যা’ কোনো বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়|

মানুষের আদিমতা ও মনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণ
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের অবচেতন মনে এক বিশাল অন্ধকার জগত রয়েছে| আমরা যাকে ‘সভ্যতা’ বলি, তা’ আসলে এক ধরনের সামাজিক চুক্তি মাত্র| এ চুক্তির অধীনে আমরা আমাদের আদিম প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করে রাখি| কিন্তু এ দমন চিরস্থায়ী নয়| যখনই কোনো সুযোগ আসে, বা যখনই মানুষ বুঝতে পারে যে তার এ কাজের জন্যে তাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না, তখনই সেই অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে| কবি, সাহিত্যিক বা দার্শনিকরা যুগে যুগে মানুষের এ ˆদ্বত সত্তাকে উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন| নিজেকে তুচ্ছ প্রাণী হিসেবে কল্পনা করে মানুষের এ রূপ দেখা আসলে এক ধরনের দার্শনিক নির্বাণ| এটি আপনাকে শেখায় যে বাইরের চাকচিক্য দেখে কখনো কোনো মানুষকে বিচার করতে নেই|

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ˆনতিক অবক্ষয়
বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর এ সময়ে এসে মানুষের ˆনতিকতার অবক্ষয় চরম সীমায় পৌঁছেছে| চারদিকে শুধু পাওয়ার প্রতিযোগিতা| কে কত তাড়াতাড়ি ধনী হবে, কার ক্ষমতা কত বেশি হবে—এ চিন্তায় সবাই বিভোর|

এ অন্ধ দৌড়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে তার মানবিক মূল্যবোধ| নিজের ¯^ার্থের জন্যে ভাই ভাইয়ের শত্রু হচ্ছে, সন্তান পিতা-মাতাকে ত্যাগ করছে| এ চরম ¯^ার্থপরতার যুগে মানুষের আসল আচরণ চেনাটা জীবনের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ| আপনি যদি এ প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে কেবল একপাশে চুপচাপ বসে থাকেন, তবে দেখতে পাবেন মানুষের এই অন্ধ দৌড় কতোটা হাস্যকর ও একই সঙ্গে কতোটা করুণ| তারা আসলে এক-একটি সোনার হরিণের পেছনে ছুটছে যা তাদের কখনোই প্রকৃত সুখ দিতে পারবে না| আর এ ছুটতে গিয়ে তারা তাদের ভেতরের মানুষকে হারিয়ে ফেলছে, জন্ম দিচ্ছে এক-একটি হিংস্র পশুর|

মানুষের ভেতরের আলোর সন্ধান
তবে কি মানুষের সব আচরণই নেতিবাচক? মানুষের ভেতরে কি কোনো ভালো দিক নেই? অবশ্যই আছে| মানুষের ভেতরে যেমন অন্ধকার আছে, তেমনি আছে আলোর স্ফুলিঙ্গ| কিন্তু সেই আলোকে চিনতে হলেও আমাদের অন্ধকারকে জানতে হবে| আপনি যখন মানুষের ভেতরের সেই ‘কুকুর’ বা পশুবৃত্তিকে চিনতে পারবেন, তখনই আপনি বুঝতে পারবেন কে সত্যিই মানবিক আর কে মুখোশধারী| নিজেকে অহং-শূন্য করে যখন আপনি চারপাশের জগতকে দেখবেন, তখন যেমন কুৎসিত রূপগুলো ধরা পড়বে, তেমনি কোনো কোনো সাধারণ মানুষের অসাধারণ মানবিকতা ও ভালোবাসার রূপটিও আপনার চোখে পড়বে|

তাই, নিজেকে মাঝে মাঝে অত্যন্ত সাধারণ বা তুচ্ছ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াটা জরুরি| এতে যেমন নিজের অহংকার দূর হয়, তেমনি চারপাশের চেনা জগতের অচেনা রূপগুলোকে খুব কাছ থেকে চেনা যায়| এই চেনার মধ্য দিয়েই মানুষের ভেতরের আসল সত্যকে আবিষ্কার করা সম্ভব| আর তখনই আমরা বুঝতে পারি, সভ্যতার এই মেকি আড়¤^রের চেয়ে মনের ভেতরের সরলতা ও মানবিকতা কত বেশি মূল্যবান|

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like

About the Author: priyoshomoy