

সম্পাদকীয়
“প্রভাবশালীরা চিরজীবন নির্দোষ থাকবে, আর দুর্বলরা যাঁতাকলে পিষ্ট হবে?”- একটি মাত্র বাক্যের এই হাহাকার কেবল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মো. জমশেদ আলী মোল্লার পরিবারের নয়, এটি আজ আমাদের সমাজের একটি নির্মম ও পরিচিত বাস্তবের প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদে দেখা গেছে, তুচ্ছ গ্রাম্য বিরোধ ও ঈদগাহ মাঠের দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী শাহিন সরকার ও তার লোকজন প্রতিবেশী দুই পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, গৃহস্থালি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারছেন না।

এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়; বরং এটি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার এক গভীর সংকটের লক্ষণ। যেখানে গায়ের জোরে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়, আইনের তোয়াক্কা করা হয় না এবং ক্ষমতার প্রভাবে অসহায় মানুষগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ে, সেখানে আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়ে।
“আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান”Ñসংবিধানের এই মৌলিক অধিকার যখন মাঠপর্যায়ে এসে থমকে যায়, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা রাষ্ট্রের ওপর থেকে উঠে যেতে বাধ্য।
অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছেন এটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের ভাষ্যÑবহু বছর ধরে তারা এ পথ দিয়েই যাতায়াত করে আসছেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষের চলাচলের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। রাষ্ট্র ও সমাজের কাজ হলো দুর্বলকে সুরক্ষা দেওয়া, সবলকে নয়। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যান, আর প্রান্তিক ও দুর্বল মানুষগুলো প্রতিনিয়ত ক্ষমতার যাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকেন।
এ ধরনের অন্যায় সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতার প্রভাবমুক্ত থেকে অবিলম্বে এ অবরুদ্ধ পরিবারগুলোকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তা দখলের মতো বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য রুখে দিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠতে পারে।
প্রকাশিত :শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬












