
কবির হোসেন মিজি :
মরণঘাতী করোনা ভাইরাস আতংকে রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে আড়াই,শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল। এখানে একসময় কানায়, কানায় ছিলো রোগীদের পরিপূর্ণতা, সেখানে আজ রোগী বিহিন পড়ে আছে হাসপাতালের বিছানা গুলো।
হাসপাতালের নিচতলা হতে শুরু করে ৪র্থ তলা পর্যন্ত কোথাও তেমন কোন রোগী ভর্তি নেই। শুধু অন্তঃবিভাগই নয় মহামারীর ভয়ে রোগীর উপস্থিতি কমেছে হাসপাতালের বর্হি বিভাগেও।

খবর নিয়ে জানা গেছে যেদিন থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমনের রোগী সনাক্ত হয়েছে। তারপর পর থেকে যখন চাঁদপুর জেলাবাসিকে হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষনা করা হয়।
তার পর থেকেই ধীরে ধীরে হাসপাতালে রোগীদের আগমন কমতে শুরু করে। প্রথম, প্রথম সরকারি এ হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে নানা রোগের আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি থাকলেও যেদিন থেকে হাসপাতালের আইনোলেশন ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের ভর্তি করা হয়। তখন থেকে আস্তে আস্তে পর্যায়ক্রমে হাসডাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে।
গত প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ এবং বর্হি বিভাগ কোথাও রোগীদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই।
কারন করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতংকিত হয়ে অনেক রোগীরাই ভয়ে হাসপাতালে আসতে বিমুখ। তবে এখনো যেসব রোগীরা হাসপাতালে আসছেন তাদের বেশির ভাগই সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারী কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন।

এছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া সহ অন্যান্য কারনে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই। সাধারণ মানুষের ধারনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি কেউ সাধারনত জ্বর, সর্দি কিংবা ঠান্ডা জনিত রোগে হাসপাতালে যান তাহলে হয়তো তাদেরকেও করোনা সন্দেহে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হবে। তাই অধিকাংশ রোগীরা এমন ভয়কে মনে লালন করে হাসপাতালে আসতে নারাজ।
২৬ এপ্রিল শনিবার দুপুরেও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে হাসপাতালের পুরুষ বিভাগ, মহিলা বিভাগ, গাইনী বিভাগ, শিশু বিভাগ, পেইং বেড এবং কেবিন ব্লক সহ কোন বিভাগেই রোগীতের তেমন কোন উপস্থিতি নেই। সব ক,টি ওয়ার্ডে রোগীদের বিছানা গুলো রোগী শূন্য হয়ে পড়ে আছে।
যেখানে স্বাভাবিক সময়ে একেকটি বিভাগে শত শত রোগী ভর্তি ছিলো। রোগীদের চাপে বিছানা গুলো পরিপূর্ণ হয়ে মেঝেতেও বিছানা পাতা হতো। এমন কি ওয়ার্ডের সব, কটি বিছানা এবং মেঝের বিছানা পূর্ণ হয়ে বাহিরের বারান্দায়ও বিছানা পাতা হতো।
সেখানে আজ রোগী শূন্য পড়ে আছে বিছানা গুলো। রোগী না থাকায় উপরে উঠার সিড়ি গুলোতে প্লাস্টিকের চেয়ার ফেলে বেড়িকেট দিয়ে রাখা হয়েছে। দু, একজন রোগী ভর্তি হলে তাদের ওয়ার্ডে নেয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ঢালের সিড়ি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আসিবুল আহসান চৌধূরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসলেই আগের তুলনায় এখন হাসপাতালে তেমন একটা রোগী হয়নি। একসময় দেখা গেছে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ এবং বর্হি বিভাগ উভয় স্থানেই রোগীদের প্রচন্ড ভিড় ছিলো।

হয়তো বা করোনা ভাইরাসের প্রভাবে হাসপাতালের রোগীদের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে আমরা সবসময়ই রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তত আছি। যেকোন রোগী হাসপাতালে আসলে আমরা তাদেরকে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবো।







