

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগন্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জে উপজেলাধীন কয়েকটি গ্রামে শ্রম ও শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক। এ ছাড়া পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় তা কাটতে মজুরি বেশি চাওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষক নিজেই পানিতে নেমে কাটছেন ধান। সেই কাটা ধান ঘরে তুলতে কৃষকেরা এখন হিমসিম খাচ্ছে ।

উপজেলার চানলাই , টিকরপুর চক, আড়িয়াল বিল, কাঠালীঘাটা এলাকায় এবার বোরো ও আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বাম্পার ফলন হলেও চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ফলে অনেকে আধা পাকা ও তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিললো আড়িয়ল বিলে ও কাঠালীঘাটার চকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন নানা পেশার মানুষ। শ্রমিক- সংকটের কারণে তারা পরিচিতদের ধান কাটায় সহযোগিতা করছেন, আবার অনেকে বেশি টাকার আশায় কোমরপানিতে কৃষককে ধান কেটে দিচ্ছেন।
আড়িয়ল বিলের কৃষক মো. হাসান বলেন, বৃষ্টি ও পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছি। পানি জমে ধান পড়ে গেছে। এ ছাড়া শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিবারের লোকজন নিয়েই করছি।’ কোমরপানিতে নেমে ধান কেটে নৌকা দিয়ে উঁচু জায়গায় নিতে হচ্ছে। এতে কষ্ট টা বেশি হচ্ছে।
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় তা কাটতে মজুরি বেশি চাওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষক নিজেই পানিতে নেমে কাটছেন ধান। সেই কাটা ধান ঘরে তুলতে কৃষকের এখন ভরসা নৌকা।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকতা মামুন ইয়াকুব বলেন, ‘এবার দোহারে ৪ হাজার ৩২০ হেক্টরে ধানের আবাদ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে হার ২০ শতাংশ জমির ধান বাহ্রা এলাকার কৃষক রমজান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এখনো আলী বলেন, এবার ১০ পাখি ধান জমিতে ধান কাটা বাকি ২৫-৩০ রোপণ করেছি। কিছু ধান কেটেছি শতাংশ। তাই প্রতি আশ্চন্তা কম।
আর কিছু আছে। এবার বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছি না, ধান থেকে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর রংপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনার মানুষ নিয়ে ধান কাটি। এবার দুই জেলায় একসঙ্গে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন শ্রমিক সংকট, তেমনি মজুরি বেশি।
চুড়াইনে ধান ভাগ করতে আসা কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমি পেশায় কৃষক। প্রতি ১০-১৫ বিঘা ধান রোপণ করি।শ্রমিক না পাওয়ায় নিজেদেরই ধান কাটতে হচ্ছে। ধানও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে কোমরপানিতে নেমে ধান কেটে নৌকায় করে বাড়িতে আনতে হচ্ছে।
এই কৃষক অভিযোগ করেন, রংপুরের এককে ৫ হাজার টাকায় ধান কাটার কাজ দেন। ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় না কেটে বিশ্রমিক চলে গেছেন। বাধ্য হয়ে জমির মালিককে ধান কেটে নিতে।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামান জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ১৭০ হেক্টর। কিছু ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষতি তেমন হয়নি। ক্ষতি হলে তা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










