

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল), ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, মাদারীপুর
কালের আবর্তে সময়ের পরিধিতে অপরূপ দৃষ্টিনন্দন ফুল ও বহুবিধ ওষধি গুণ সম্পন্ন বিষ্ময়কর ফুল ও ফল ‘চালতা’ বিলুপ্তির পথে। চালতা ফুলের বিকাশ ও পরিপূর্ণতা বড়ই বৈচিত্রময়। একটি পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত চালতা ফুল কতটা সৌন্দর্যময় তা স্বচোখে না দেখলে বোঝারই উপায় নেই।

চালতা ফল বহুবিধ ঔসধিগুণসম্পন্ন হলেও মূলত এর আচার দেশের নারীদের জন্য লোভনীয় মুখরোচক খাবার হিসাবে ব্যাপক সমাদৃত। যথাযথ উদ্যোগের অভাবে দিনে দিনে আবহমান গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ গাছটি।
অতীতে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ময়কর ও বহুবিধ ঔষধিগুণসম্পন্ন এই চালতা ফুল ও ফল দেখা গেলেও বর্তমানে এই ফুল ও ফল ক্রমেই গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, বহুবিধ ভেষজ ঔষধি গুণসম্পন্ন এ ফল পাকে বর্ষার পর। পাওয়া যায় শীতকাল পর্যন্ত। আষাঢ়-শ্রাবণে ফোটে চালতা ফুল। সুগন্ধি এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পাপড়িগুলো আঁকড়ে থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। চালতা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন এ, বি ও সির ভালো উৎস। প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এ ফল স্কার্ভি ও লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।
সুগন্ধীযুক্ত এই ফুলে পাঁচটি মোটা পাপড়ি থাকে। পাপড়িগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখে ফুলের বৃতি এবং এই বৃতিই মূলত ফলে রূপান্তরিত হয়। এ ফুল সাদা রঙের। ফোটার পর ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটে। মৌমাছিরা মধু আহরণ করতে গিয়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি পরিপূর্ণ ফলে পরিণত হয়।
শিবচর উপজেলার নূর-ই-আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় গ্রামীণ জনপদের রাস্তার পাশে, পুকুরের ধারে ও বাড়ির আঙিনায় চালতা গাছ দেখা যেত। বর্তমানে সে দৃশ্য চোখে পড়ে না। একটি গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। চালতা গাছের সবুজ পাতা খাঁজকাটা। চালতা ফুল দ্রুত ফলে পরিণত হয়।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় জানান, ‘একটি চালতা ফলের গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। চালতা গাছে প্রথমে ফল ধরে। ফলের আকার যখন ডিমের আকৃতি ধারণ করে তখন ওই ফলের মধ্য থেকে অপরূপ, বাহারি, বিরল ধরনের ফুল ফোটে। চালতার ফুল সাধারণত রাতে ফোটে। চালতা গাছে ফুল ফোটার পর এক দিনের মধ্যেই ফুলের পাপড়ি নিস্তেজ হয়ে ঝরে পড়ে। একটি ফলে এক দিনের জন্যই পরিপূর্ণ একটি ফুল ফুটে ঝড়ে যায়। অতীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ময়কর ও বহুবিধ ঔষধিগুণসম্পন্ন এই চালতা ফুল ও ফল দেখা গেলেও বর্তমানে এই ফুল ও ফল ক্রমেই গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে‘।










