

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির ঘোষণা থাকলেও বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পর্যায়ে এখনও অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো কার্যকর প্রভাব পড়েনি। বরং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কমিশন বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজি ১ হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৯১০ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৫৪৬ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজি ৩ হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৭২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলায় ১২, ১৫ ও ২০ কেজি সিলিন্ডারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অথচ এসব সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১৫ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার পুরাতন বাজার, একে স্কুল এলাকা, বটতলা, আল-হেলাল মোড়, হাসপাতাল সড়ক ও নতুন বাজার চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের ১২ কেজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫২৮ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে টোটাল ব্র্যান্ডের ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। যমুনা, আই, সেনা, ওরিয়ন ও বিএম ব্র্যান্ডের ১২ ও ১৫ কেজির সিলিন্ডারেও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে টোটাল ব্র্যান্ডের ১৫ কেজির সিলিন্ডারে, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪৫০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ লাইলী বলেন, “১৫ কেজির টোটাল গ্যাস কিনতে আমার কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”
ক্রেতা আমেনা ও আলী হোসেন বলেন, “১২ কেজির বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার কিনে আমাদের ১ হাজার ৭৫০ টাকা দিতে হয়েছে। সরকার দাম কমালেও বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই।”
আমতলী নতুন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. কনু মিয়া বলেন, “ডিলাররা নতুন দামে গ্যাস সরবরাহ না করায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
বটতলা এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “আমরা যে দামে কিনি, তার ওপর সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করি।”
বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, “কোম্পানি এখনো নতুন মূল্য কার্যকর করেনি। আমরা পাইকারি দরে কিনে সেই অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছি।”
টোটাল গ্যাসের ডিলার মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্সের মালিক মীর মো. ইব্রাহিম বলেন, “কোম্পানি এখনো দাম কমায়নি। তাই সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি মূল্য ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর না হওয়ায় দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

















