দোহারে অবৈধ ইজিবাইক চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

মাকসুমুল মুকিম, দোহার নবাবগঞ্জ (ঢাকা) :

মানুষ যাতায়াতের জন্য আদিকাল থেকেই বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে আসছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই যানবাহনেরও পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিকতার ছোয়ায় মানুষ এখন প্রায় অলসে পরিনত হয়েছে।

১ কিলোমিটার দূরত্বের পথও যেনো গাড়ি ছাড়া চলা দায়। এই অলসতাকে পুজি করে, এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে সিন্ডিকেট। যারা অবৈধকে বৈধ করতে সদা জাগ্রত।

ইজিবাইক বা অটোবাইক দোহার নবাবগঞ্জ বাসীর যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি যানবাহন। ফলে প্রতিনিয়তই এই দুই উপজেলায় বাড়ছে এই অবৈধ গাড়ির সংখ্যা। একদিকে যেমন বেকারত্বের অবসান হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে রাস্তায় ভোগান্তি।

সাম্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে ঢাকার দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় এই গাড়ি নিয়ে এক শ্রেনীর একটি অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠার পরিকল্পনা চলছে। যা ইতিমধ্যে দোহার উপজেলায় দৃশ্যমান হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহার উপজেলার স্থানীয় ইজিবাইকের ভিতরে একটি ভাড়া তালিকা টাঙানো রয়েছে। যা দোহারের অটোবাইক মালিক সমিতির অনুমোদন দেওয়া বলে বুঝানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে একাধিক ইজিবাইক চালক ও মালিকের সাথে কথা বলে এই সমিতির কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে কোন এক স্বার্থান্বেষী মহল দোহার-নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালক ও মালিকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলশ্রুতি সরূপ দোহার উপজেলার ইজিবাইক চালকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভাড়া তালিকা। যা প্রকৃত পক্ষে অবৈধ।

নবাবগঞ্জ থেকে জয়পাড়া আসা ইজিবাইক যাত্রী হিমেল বলেন, ইজিবাইক চালকরা কি মগের মুল্লুক পেয়েছে নাকি। হঠাৎ করে রাতারাতি ভাড়া বৃদ্ধি করেছে।

তার সাথে সুর মিলিয়ে সোহান বলেন, ইজিবাইক বাংলাদেশে অবৈধ গাড়ি এদের আবার সমিতি কিসের। আসলে দোহার নবাবগঞ্জে অটোবাইক মালিক সমিতি নামে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট মাথাচারা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জয়পাড়া ব্রিজের ঢালে ইজিবাইক চালকের সাথে তর্ক করছেন বৃদ্ধ আব্দুল হাই। তর্কের কারণ জানতে চাইলে আব্দুল হাই বলেন, আমি লটাখোলা বাজার থেকে জয়পাড়া ব্রিজের ঢালে এসে নেমেছি। এখানকার ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু ইজিবাইক চালক ৫ টাকা নিবেন না। তিনি আমার কাছে ১০ টাকা দাবি করছেন। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা দাবি করার কারণ জানতে চাইলে ইজিবাইক চালক এই প্রতিবেদককে তার গাড়িতে টাঙানো ভাড়া তালিকা বের করে দেন। তিনি বলেন, আপনি যেখান থেকেই উঠেন না কেনো সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। মূল্য তালিকা কারা করেছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এই ভাড়া তালিকা কারা করেছে আমরা জানি না। তবে নতুন এই ভাড়া তালিকা তৈরি করাতে যাত্রীর সাথে আমাদের ঝগড়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

ভাড়া বাড়ানোর কারন জানতে চাইলে ইজিবাইক চালক কুদ্দস যুক্তি দিয়ে বলেন, দেশে তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া বাড়ানো হইছে। তাই আমরা আমাগো ইজিবাইকের ভাড়াও বাড়াইছি। ইজিবাইকের ব্যাটারি তো বিদ্যুতে চার্জ হয়, তেলের সাথে ইজিবাইকের সম্পর্ক কি জানতে চাইলে ওই ইজিবাইক চালক প্রতিবেদককে কোন উত্তর দিতে পারেননি।

এছাড়া সন্ধান না পাওয়া অটোবাইক সমিতি ভাড়া তালিকায় হুমকি সরূপ বলা হয়েছে, যদি কোন গাড়ির মালিক এই ভাড়া অমান্য করে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে। শুধু তাই নয় তার গাড়ি একদিনের জন্য আটক করা হবে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে একটি তালিকা দেখেছি। তবে অটোবাইক মালিক সমিতি নামে দোহারে কোন সমিতির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কে বা কাহারা এই কাজটি করেছে তাদের খোজা হচ্ছে। সেই সাথে তিনি আরোও বলেন, এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You might like