স্বরূপকাঠীতে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে ছেলের সামনে অভিভাবককে মারধর করার অভিযোগ

স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :

স্বরূপকাঠীতে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে ছেলের সামনে পিতা মাতাকে পিটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে অপর এক ছাত্রের অভিভাবক পিতা মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। উপজেলার চাঁন মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠিদের কাছে মাদক বিক্রির অভিযোগে ওই ছাত্রের পিতাকে শিক্ষকদের সামনে বসে ওই মারধর করা হয়।

এসময় এগিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রের মা প্রতিবাদ করলে তাকেও গালমন্দ করেন অভিভাবক মুনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ওই শিক্ষার্থী। এমনকি সামাজিক লোক লজ্জায় ঘরের বাহিরে বের হতে কষ্ট হচ্ছে মার খাওয়া ওই দম্পত্তির।

গত বুধবার (৩০ আগষ্ট) বিদ্যালয়ে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটার পর মার খাওয়া ওই অভিভাবক থানায় যাচ্ছিলেন। এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর বিচার করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করে ধমিয়ে রাখেন। তবে এখনো এর কোন বিচার পাচ্ছেনা ওই অভিভাবক দম্পত্তি। বিদ্যালয়ে বসে শারীরিক ও মৌখিকভাবে লাঞ্চিত হওয়া মো: বাচ্চু মিয়া ও আসমা বেগম দম্পত্তি এ অভিযোগ করেছেন।

লাঞ্চিত হওয়া আসমা বেগম অভিযোগ করেন, ” গত বুধবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার স্বামী বাচ্চু মিয়া সহ তাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। বিদ্যালয়ে আসলেই প্রধান শিক্ষক শ‌হিদুল ইসলা‌ম সহ অন্যান্য শিক্ষকদের সামনে বসে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের পিতা মনিরুল ইসলাম তার স্বামীকে চার পাঁচটি চড় থাপ্পড় মারেন।

আমি কিছু জিজ্ঞাসা করতেই মনিরুল আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময়, আমাদের সামনেই আমার ছেলেকে মাদকাশক্ত বলে এলোপাথারি চড় থাপ্পড় মারেন মনিরুল। ছেলেকে মারতে মারতে এক পর্যায়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে বুকের উপরে পা দিয়ে চেপে ধরেন। তখনও কোন প্রতিবাদ করেননি বিদ্যালয়ের শিক্ষক”।

লাঞ্চিত বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে তার স্ত্রী পুত্রের সামনে অন্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনিরুল আমাকে মারধর করেছে। আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন। আমাদের মারধর করেই ক্ষান্ত থাকেনি মনিরুল ইসলাম।

আমার সামনে আমার বাচ্চাকে মেরে মাঠিতে ফেলে বুকে পা দিয়ে আঘাত করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের অভিযোগ আমার ছেলে নাকি মাদক সেবন করে। একইসাথে ক্লাসের সহপাঠিদের নিকট নাকি মাদক বিক্রি করে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করতে গেলে বিদ্যালয়ের কমিটি নাকি বিচার করবেন বলে আশ্বস্ত করে এখনো এর কোন বিচার করছেননা”।

অভিযুক্ত মো: মনিরুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমি কারো গাঁয়ে হাত তুলিনি। অভিভাবক তাদের সন্তানের বিচার না করে সাফাই করছিলেন। এসময় উপস্থিত সকলের সামনে আমি তাদের একটু বৎসনা করেছি। তিনি বলেন বাচ্চু মিয়ার ছেলে বিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কাছে মাদকদ্রব্য বিক্রি করেছে। এজন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি তাকে পুলিশে দিতে চেয়েছিল আমরা তাকে বুজিয়ে তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করেছি মাত্র”।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। কিছু ঘটলে সেটা আমরা বুজব।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির সভাপতি নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হক বলেন, শুনেছি নবম শ্রেনির ওই ছাত্র বিদ্যালয়ে সহপাঠিদের কাছে নেশাজাতিয় দ্রব্য বিক্রি করেছে। ওই ছাত্র সহ কয়েকজনে বিদ্যালয়ে বসে কলমের ক্যাপের ভিতরে ওই দ্রব্য ভরে মুখ দিয়ে টানে। এতে বিদয়ালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ওই জিনিসটি পরীক্ষার জন্য আমরা ল্যাবে পাঠিয়েছি। তারপর এর সমাধান হবে।

You might like