

মো. সোহেল কিরণঃ স্টল বরাদ্ধ ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হওয়া, মেলা উদ্বোধনের পরও স্টল নির্মাণে বিলম্ব হওয়া, দীর্ঘ জ্যামযটে ভোগান্তি সহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে আজ (২০ ফেব্রুয়ারী) পর্দা নামলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার ২৮তম আসরের।
একই সময়ে বই মেলা, অন্য দিকে এসএসসি পরিক্ষা চালু হওয়ায় ছুটির দিনগুলো ছাড়া এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক খুবই কম। মেলায় বড়সর কোম্পানি গুলো পন্য প্রদর্শনীতে সন্তুষ্ট হলেও লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা। ক্ষতির আশংকায় মেলার সময় বাড়ানোর দাবীতে এখানে অংশ গ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেন। তবে, কর্তৃপক্ষ বলছেন এবারের মেলায় ৪০০ কোটি টাকার বেচা কেনা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য প্রদর্শনীর সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা। এ মেলায় বসার কথা ছিল দেশি-বিদেশী সেরা মানের পণ্য। কিন্তু এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার বরাদ্ধ ব্যয় বেশি হওয়ায় অধিকাংশ স্টল শেয়ারীংয়ে মেলার মান কমেছে। লোকাল মার্কেটে যেসব পণ্য সস্তা দামে সহজেই পাওয়া যায় সেসব পন্যেই ভরপুর ছিল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার আঙ্গিনা।
তাই মানসম্মত পন্যের চাহিদাও ছিল কম। তবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পণ্য ভেধে ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত ছাড়া দিয়েছে দোকানীরা। তবে পণ্যের দাম বেশি ও মান নিয়ে মেলার শুরু থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ জ্যামযটে ভোগান্তি ও মাইকের উচ্চতর শব্দ দূষণের অভিযোগ দেশ- বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। এছাড়া মেলার সৌচাগার গুলো ছিল ভয়কর। ময়লা আর পানিতে একাকার। অর্থনীতীতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার গুরুত্ব অনেক। তাই সকল অব্যবস্থাপনাকে দূর করে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী মেলাকে আরো সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে সাজাবে মেলা কর্তৃপক্ষ এমন দাবি সবার।
সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, এবারের মেলায় ৪০০ কোটি টাকারও বেশি পন্য বেচা-বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ১৫শতাংশ বেশি। এছাড়া এবারের মেলায় ৩৯১.৮২ কোটি টাকার পণ্যের রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। যা গতবারের মেলার তুলনায় ১৭.২৫ শতাংশ বেশি। এসময় ১৪টি ক্যাটাগরীতে ৪১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা।










