অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা সিন্ডিকেট গড়ে তুলুন: ডিজি ভোক্তা অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিনিধি:
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা সিন্ডিকেট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রসাধনী থেকে শুরু করে এমন কোন পণ্য নেই যেটি বাংলাদেশে নকল হয় না। এমনকি হার্টের রিং এবং বাল্ব পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণগুলো বিক্রি হচ্ছে। কী অদ্ভূত একটা দেশ! দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় এই কাজগুলো করা হচ্ছে। অথচ সততার সাথে যিনি ব্যবসা করতে চান তিনি টিকে থাকতে পারেন না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়ে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহার বন্ধে’ আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সফিকুজ্জামান বলেন, ‘এগুলো বন্ধের জন্য বিভিন্ন আইন আছে, সরকারি দপ্তর আছে, প্রশাসন আছে; কিন্তু প্রতিটি পদে পদে এটি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা। জনমত তৈরি করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তার সিন্ডিকেট দরকার।’

ডেঙ্গুর প্রকোপে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মশার কয়েলও নকল করা হয়েছে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এক অভিযানে পাওয়া গেল, প্রতিষ্ঠিত একটি ব্র্যান্ডের চিনি, লবন নকল প্যাকেটে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো অহরহ হচ্ছে, এইটা হচ্ছে বাস্তবতা।’

বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক সংগ্রাম করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অনেকে বলেন, দেশটা নাকি সিঙ্গাপুরের মতো। আমি বলছি, না, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের মতো হয়েছে। আমাদের দেশের মেট্রোরেল সিঙ্গাপুরের চেয়েও বেটার (উন্নতমানের)। আমরা সাবমেরিন, স্পেস ও নিউক্লিয়ার ক্লাবে ঢুকেছি। এই অর্জনগুলো ইচ্ছা করলেই করা যায় না। এইগুলোর জন্য একটা পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট দরকার। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের টার্গেট দিয়েছিলেন। তাঁর যেই ভিশন তাতে আমরা আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ হবো।’

‘২০২৬ সালের পর মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় যাবো। তখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে সকল সুবিধা পাচ্ছি তা কমে যাবে। তখন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা যাবে। তখন কর্মক্ষম মানুষের প্রয়োজন হবে। কিন্তু খোলা ড্রামের অনিরাপদ তেল খেলে তো সেই কর্মক্ষম মানুষ পাবো না। ক্যামিকেলের ড্রাম পরিষ্কার না করেই সেখানে ভোজ্যতেল মজুত করে বিক্রি করছে’, যোগ করেন তিনি।
দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আমরা ১৫০০ মানুষকে হার্টের চিকিৎসা দিতে পারি। কিন্তু প্রতিদিন ঢাকা সিটিতে হার্টের রোগী আসে তো ৫-১০ হাজার। এর কারণ হিসেবে ধূমপান ছাড়াও এই অনিরাপদ তেল ব্যবহারও অন্যতম কারণ। আমার তো মনে হয়, সবচেয়ে বেশি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এই বাংলাদেশে।

You might like