কোথা থেকে আসে পলিথিন!

সম্পাদকীয়

শহর-গ্রামের বাজারগুলোতে এখনো দেখা যায় পলিথিন হাতে মানুষজনকে। সরকারি নিষিদ্ধ থাকা সত্তে¡ও এখনো কেনো বাজারে পলিথিন থাকবে? কোথা থেকে আসে এতো পলিথিন। তবে কি বন্ধ হয়নি কারখানা? উৎপাদন কি রাতে হয়? অভিযান তো চলমানই আছে! তাহলে আমরা কী বুঝবো?

আমরা জানি, নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগকে নিষিদ্ধ করে নভেম্বরের শুরু থেকে বাজারে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। তবে মাসব্যাপী অভিযানে কিছুটা পলিথিন কমেছে বলে অনুমান করা যায়। কারো কারো মতে বিন্দুমাত্র কমেনি পলিথিন আগ্রাসন। এখনো কাঁচাবাজার, মাছবাজার, মাংসের দোকান, মুদি দোকান- সর্বত্র পলিথিন ব্যাগেই দেয়া হচ্ছে পণ্য। বন্ধ হয়নি পলিথিনের পাইকারি দোকান বা উৎপাদন। সরকারের তথ্যানুযায়ী, ৩ নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত পলিথিন শপিং ব্যাগের বিপণন ও ব্যবহার থামাতে ১৬৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ৩৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৪ টন পলিথিন।

আর পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক উৎপন্ন হয় প্রায় ৮৭ হাজার টন। এটা কতোই না ভয়াবহ আমাদের পরিবেশ ধ্বংসের জন্যে। এসব পলিথিনের সবই কোনো না কোনোভাবে মাটিতে ফেলা হচ্ছে। অর্থাৎ মাসে ৭ হাজার টনের বেশি, যার মধ্যে পলিথিন ব্যাগের পাশাপাশি ওয়ানটাইম কাপ, গøাস, বিস্কুট-চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি রয়েছে। আর বছরে মোট প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয় ৮ লাখ ২১ হাজার ২৫০ টনের বেশি। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, উৎপন্ন প্লাস্টিক বর্জ্যরে ৪০ ভাগ পুনঃব্যবহার হলেও বাকিটা পড়ে থাকে পরিবেশে। আর একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগের প্রায় পুরোটাই জায়গা করে নেয় মাটি, ড্রেন, স্যুয়ারেজ, খাল, বিল, নদী ও সমুদ্রে।

এগুলো গুঁড়ো হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপান্তরিত হয়ে মিশে যায় খাদ্যচক্রে, যা ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের জন্ম দেয়। ২০২১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় প্রতি কেজি লবণে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৭৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক গবেষকদের নেটওয়ার্ক রিসার্চগেটে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী হয়ে প্রতিবছর প্রায় ১-৩ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশছে বঙ্গোপসাগরে।

এদিকে পলিথিনের আগ্রাসন ঠেকাতে অধিকাংশ অভিযান চলেছে বাজারকেন্দ্রিক। হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা সিলগালা করা হলেও বিভিন্ন সূত্রমতে দেশে দেড় হাজারের বেশি কারখানায় উৎপাদন হয় পলিথিন ব্যাগ। পলিথিনের শপিং ব্যাগ কি তাহলে তৈরি হয় রাতে? রাতেই বুঝি সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়? আর অভিযান চলে দিনে! হয়তো এজন্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন ধরা পড়ে না।

আমরা মনে করি, প্লাস্টিকের প্রতিটি পণ্য তৈরির ডাইস আলাদা। যারা অভিযান চালান, তারা অভিজ্ঞ হলে কারখানার যন্ত্রপাতি দেখলেই বুঝতে পারবেন সেখানে পলিথিনের শপিং ব্যাগ তৈরি হয় কি না।

একটি দোকানে সাধারণত প্রতিদিন দেড়-দুই কেজি পলিথিন লাগে; প্রয়োজনে আরো বেশি হতে পারে। এভাবে প্রতিটি দোকানে হিসেব করলে প্রচুর পলিথিন আমাদের জমা হতে পারে। আমরা মনে করি, পলিথিন বন্ধ করতে চাইলে প্রথমে উৎপাদন বন্ধ করতে হবে, একই সঙ্গে বিকল্প ব্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোটাই যদি না হয়, তাহলে আমরা বিপদের মধ্যে থাকবো। তাছাড়া কোথাও কোথাও চাল-ডাল দেয়ার জন্যে কাগজের ঠোঙ্গাই পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, জনসচেতনতার পাশাপাশি বাজারগুলোতে অভিযান আরো তোড়জোড় চালাতে হবে। কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতারাতি পলিথিন লেনদেন করছে বলে আমরা অনুমান করছি। অন্যথায়, কোথা থেকে আসে এতো পলিথিন?

বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like