

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নরসুন্দা নদীটি ৩শ বছরের প্রাচীন ঐতিয্যের ইতিহাস নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ হতে কিশোরগঞ্জের নীলগঞ্জ হয়ে ভাটি অঞ্চল হাওরের মেঘনা নদী পর্যন্ত বয়ে গেছে। এক সময় এ নরসুন্দা নদীতে বড় বড় মালবাহী নৌকাসহ পারাপারের পালতোলা অসংখ্য নৌকা সারি সারি চলতে দেখা যেত। কালের বির্বতনে নাব্যতা সংকটে নদীটি এখন প্রায় মৃত হওয়ায় হারিয়ে গেছে নানা রকমের দেশীয় মাছ ও তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকের উর্বর ভূমির বাম্পার ফলন।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের খাল খনন কর্মসূচীর আওতায় নরসুন্দা নদী খননে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে এটি সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌছাতে পারেনি। খনন কাজ করলেও প্রয়োজনীয় গভীরতা এবং মাঝেমধ্যে আংশিক খনন করা হয়নি। যে টুকু খনন করা হয়েছে তার উত্তোলনকৃত মাটি দিয়ে নদীর পাড় বাঁধলেও তদানিন্তন সময়ে স্থানীয় চেয়্যরম্যানসহ আওয়ামী খমতাসিন দলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের যোগসাজসে উত্তোলনকৃত পাড়ের মাটি রাতারাতি কেরেন দিয়ে তুলে হাজার হাজার ট্রাক ভর্তি মাটি বিক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকায় নিজেদের পকেট ভারি করেন।
এলাকার সচেতন মহলের কিছু কিছু লোক প্রতিবাদ করলেও ক্ষমতাসিনদের তোপের মুখে কেউ টিকে থাকতে পারেনি বা কোন প্রতিকারও পাওয়া যায়নি। ফসলি জমি খাল খননে চলে গেলেও কৃষক আশায় বুক বেধেছিল চিরচেনা নরসুন্দার যৌবন রূপ পুনরায় ফিরে পাওয়ার আশায়। নরস্ন্দুা নদীর পশ্চিমে হোসেনপুর ব্রহ্মপুত্র নদী ও পূর্বে কিশোরগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের মেঘনা নদী সংযোগ স্থল হলেও কোথাও সংযোগ দেয়া হয়নি। ফলে ব্রহ্মপুত্র বা ভাটির হাওর অঞ্চলে বার্ষা বা বন্যার পানি উপচে গেলেও নরসুন্দা নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছেনা। ফলে নাব্যতা সংকটে নদীটি মৃতই রয়ে গেছে। এতে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জমিতে সেচও দিতে পারছেন না কৃষক।
বর্ষার ভরা মৌসুমেও পানি না আসায় মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এতে কৃষকের কৃষিজমির উন্নয়ন না হয়ে বরং ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। নদীতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি ও ¯্রােত না থাকায় নদী শুকিয়ে কচুরিপানা ঝেঁকে বসেছে। নরসুন্দার নদীর তীরবর্তী উপজেলার কাওনা গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস মিয়া (৫৫) বলেন, ছোট সময় এ নদীতে দেশীয় নানা প্রকারের সুস্বাদু অসংখ্য মাছ ধরতাম এবং ফসলি জমিতে বর্ষার পানির ¯্রােতে পলি পড়ায় বিঘা প্রতি ২০ মন করে ধানের ফলন পাওয়া যেত। বর্তমানে উন্নত হাইব্রিড জাতের ফসল চাষ করলেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
রহিমপুর গ্রামের সেলিম মাহবুব সবুজ (৪৫) জানান, নদীর চরাঞ্চলে শাক-সবজী উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা থাকালেও নাব্যতা সংকটে উর্পযুক্ত সেচ সুবিধা না পাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এতে করে কৃষকের নিজ আবাদি জমি থাকা সত্ব্যেও উৎপাদনের অভাবে দারিদ্রতা প্রকট আকার ধারন করছে। ফলে কৃষি কাজ ছেড়ে গ্রামের মানুষ রোজি রোজগারের আশায় পাড়ি জমাচ্ছেন শহরাঞ্চলে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা নাব্যতা সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।
শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
১৮ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন










