বাধ্যতা : ক্ষুদীরাম দাস

বাধ্যতা মানব চরিত্রের একটি গুণ। বাধ্যতাকে বশীভূত থাকাও বুঝতে পারি। কারো ইচ্ছার অধীন বা আদেশ, উপদেশ, পরামর্শ অনুযায়ী চলা বা করা। বাধ্যতা না থাকলে সফলতা অর্জন করা যায় না; কারো মনও জয় করা যায় না। তাছাড়া ঈশ্বরের বাধ্যতা আমাদের জীবন রক্ষা করে ও ঈশ্বরের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আর যারা ঈশ্বরের অবাধ্য তারা জীবনে পাপের অন্ধকারে থেকে হাবুডুবু খায়। অবাধ্যতা সম্পর্কে বাইবেল বলে-১ শমূয়েল ১৫:২৩ পদে রয়েছে, “কারণ আজ্ঞা লঙ্ঘন করা মন্ত্র পাঠের ন্যায় পাপের তুল্য, এবং অবাধ্যতা, পৌত্তলিকতা ও ঠাকুর পূজার সমান। তুমি সদাপ্রভুর বাক্য অগ্রাহ্য করিয়াছ, এই জন্য তিনি তোমাকে অগ্রাহ্য করিয়া রাজ্যচ্যুত করিয়াছেন।” এখানে আমরা দেখতে পেলাম যে, অবাধ্যতাকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং অবাধ্যতার কারণে কী পরিণতিতে যেতে হয়। আমরা পূর্বে ঈশ্বরের অবাধ্য সন্তান ছিলাম; (রোমীয় ১১:৩০ পদে রয়েছে, “ফলতঃ তোমরা যেমন পূর্বে ঈশ্বরের অবাধ্য ছিলে, কিন্তু এখন উহাদের অবাধ্যতা প্রযুক্ত দয়া পাইয়াছ,) কিন্তু খ্রীষ্টের বহুমূল্য জীবনের বিনিময়ে আমরা নতুনভাবে ঈশ্বরের সন্তান হবার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আর যারা অবাধ্য তারা শাস্তি পায়; কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সকলকে ভালোবাসেন। রোমীয় ১১:৩২ পদে রয়েছে, “কেননা ঈশ্বর সকলকেই অবাধ্যতার কাছে রুদ্ধ করিয়াছেন, যেন তিনি সকলের প্রতিই দয়া করিতে পারেন।”

মন থেকে কিছু করা বাধ্যতার চেয়েও বেশি কিছু; যাকে আমরা বদান্যতা বলতে পারি। ২ করিন্থীয় ৯:৫ পদে রয়েছে, “এজন্য আমি ভাইদেরকে এই অনুরোধ করা প্রয়োজন মনে করলাম; যেন তাঁরা আগে তোমাদের কাছে যান এবং পূর্বে ওয়াদাকৃত তোমাদের সেই দান ঠিকঠাক করেন, যেন এরূপে তা বাধ্যতামূলক বলে নয়, কিন্তু বদান্যতার বিষয় বলে প্রস্তুত থাকে।” কাজেই বদান্যতাও আমাদের সকলের থাকা উচিত; এতে বাধ্যতা স্থিরিকৃত হবে।

পুরাতন নিয়মে, আমরা দেখতে পাই যে, ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বরের বাক্য অমান্য করার সময় মহামারী, রোগ, শত্রুর হাতে পরাজয়, দুর্দশা ইত্যাদির আকারে বিভিন্ন শাস্তি প্রেরণ করেছিলেন। ঈশ্বরের নির্দেশ না মেনে অবাধ্যতা করার ফলে শৌলের মারাত্মক পরিণতি হয়েছিলো। ১ শমূয়েল ৩১ অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাই, অনেকে মারা গিয়েছিলো। সমস্ত ইস্রায়েলীয় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো এবং শৌলের সেনাবাহিনী তার পুত্রদের সাথে নিহত হয়েছিলো। শৌলের অবাধ্যতার কারণে, তিনি আর প্রভুর সুরক্ষা পাননি এবং পলেষ্টীয় তীরগুলো তাকে খুঁজে পায়। আখনের লোভ তাকে অবাধ্যতার দিকে পরিচালিত করেছিলো, এবং তার অবাধ্যতা ইস্রায়েলের জন্যে দুঃখজনক ঘটনা ডেকে এনেছিলো, অয় যুদ্ধে তাদের পরাজয় থেকে শুরু করে (যিহোশূয় ৭:৫)। যিহোশূয় দুঃখিত হয়েছিলেন এবং প্রভু অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন, লোকদের তাঁর সামনে উপস্থিত হতে বলেছিলেন: “যাও এবং লোকদের পবিত্র কর,” প্রভু যিহোশূয়কে বলেছিলেন (১৩ পদ)। পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে শৌলের যুদ্ধের ঠিক আগে, শৌল শমূয়েলের জন্যে অপেক্ষা করেন না; যেমনটি তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। পরিবর্তে, শৌল অমান্য করেন এবং একা একটি বলিদান উৎসর্গ করেন (১ শমূয়েল ১৩:৯)। শৌল ঈশ্বরের কথা শুনতে অস্বীকার করার কারণে, শমূয়েল বলেন যে, তিনি ইস্রায়েলে একটি চিরন্তন রাজবংশের আশা হারিয়ে ফেলেছেন (১ শমূয়েল ১৩:১৩)। যখন পবিত্র আত্মা আমাদের জীবনে থাকেন না, অথবা যখন আমরা পবিত্র আত্মার কণ্ঠস্বর মেনে চলি না, তখন আমার কোনো লাভ নেই; কারণ আমার কোনো ফল ধরে না এবং আমি উৎপাদনশীলতার বোধ হারিয়ে ফেলি এবং আমি আগের চেয়ে অযোগ্য হয়ে পড়ি । বাবা-মায়ের অবাধ্যতা আমাকে খারাপ পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে; যার ফল আমাকে পরে ভোগ করতে হতে পারে। যারা বাবার অবাধ্য হয় এবং তাদের কাজের জন্যে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়। অবাধ্যতা জাদুর পাপের মতোই খারাপ। অহংকার মূর্তি পূজার পাপের মতোই খারাপ। “তুমি প্রভুর আদেশ অমান্য করেছ, এখন তিনি তোমাকে রাজা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছেন (১ম শমূয়েল ১৫:২৩)”।
আমরা যদি ঈশ্বরের কথা না শুনি, তাহলে ঈশ্বরও আমাদের কথা শুনবেন না ।

যিরমিয় ঈশ্বরের লোকেদের কথা শুনতে ব্যর্থ হওয়ার জন্যে দোষারোপ করেন, তারপর তাদের প্রতি ঈশ্বরের বার্তা লিপিবদ্ধ করেন, “অতএব, প্রভু এ কথা বলেন, দেখ, আমি তাদের উপর এমন বিপদ আনছি যে তারা পালাতে পারবে না। তারা আমার কাছে কাঁদলেও আমি তাদের কথা শুনব না” (যিরমিয় ১১:১১)। যে পাপকে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে বলা হয়, তা হলো এমন পাপ যার মাধ্যমে পাপ করার পথে বাধা দূর করা হয়। কিন্তু অবাধ্যতার মাধ্যমে একজন মানুষ এমন একটি আদেশকে অবজ্ঞা করে, যা’ বিশেষ করে তাকে পাপ করা থেকে বিরত রাখবে। অতএব, অবাধ্যতা পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ। বাবা-মায়ের অবাধ্যতা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, কারণ এটি বাবা-মা-সন্তানের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। অবাধ্যতার ফলে যোগাযোগ এবং বিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে, সেইসাথে বিরক্তি ও ক্রোধের অনুভূতিও দেখা দিতে পারে। অবাধ্য সন্তান মৃত্যুর যোগ্য। “তোমার পিতা ও মাতাকে সম্মান করো: আর, তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।” “তখন তিনি তাদের সাথে নাসরতে গেলেন এবং তাদের বশীভূত হলেন: কিন্তু তাঁর মা এই সমস্ত কথা হৃদয়ে রেখেছিলেন।” এখন এটা ঈশ্বরের আজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যে, একজন ব্যক্তি তার ঊর্ধ্বতনদের আনুগত্য করবে। আর তাই যে অবাধ্যতার মাধ্যমে কেউ তার ঊর্ধ্বতনদের আদেশ অমান্য করে, তাও একইভাবে একটি নশ্বর পাপ, ই অর্থে যে এটি ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার পরিপন্থী – রোমীয় ১৩:২ পদ অনুসারে এটি (“যে ব্যক্তি ঐ শক্তিগুলোকে প্রতিরোধ করে, সে ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে”)। শিম্শেন ঈশ্বরের অবাধ্য হলে কী হয়েছিলো? সে নানাভাবে ঈশ্বরের ডাক অমান্য করেছিলো। অবশেষে সে দলীলা নামে এক পলেষ্টীয় পতিতার প্রেমে পড়ে যায়, যে গোপনে তার শত্রুদের জন্যে কাজ করতো। ঈশ্বর শিম্শনের শক্তি কেড়ে নিয়েছিলেন এবং দলীলা তাকে বন্দী করতে সক্ষম হয়েছিলেন (বিচারকর্ত্তৃগণ ১৬:১-২১)। শিম্শনকে তার অন্যায়ের জন্যে এক দুঃখজনক মূল্য দিতে হয়েছিলো।

দ্বিতীয় বিবরণ ২৮ অধ্যায়ে অবাধ্যতার ফলাফল কী, তা আমরা দেখতে পাই। (১৬-৬৮) ইস্রায়েলের অবাধ্যতার উপর অভিশাপ। “ শহরে তুমি অভিশপ্ত হবে, আর মাঠেও তুমি অভিশপ্ত হবে। “তোমার ঝুড়ি ও তোমার মাখার পাত্র অভিশপ্ত হবে। “তোমার শরীরের ফল, তোমার জমির ফসল, তোমার গবাদি পশুর ফল এবং তোমার মেষপালের সন্তান অভিশপ্ত হবে।”

পবিত্র আত্মার অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ। যখন পবিত্র আত্মা আমার জীবনে থাকেন না, অথবা যখন আমি পবিত্র আত্মার কণ্ঠস্বর মেনে চলিন না, তখন আমার কোনো লাভ নেই; কারণ আমার কোনও ফল ধরে না এবং আমি উৎপাদনশীলতার বোধ হারিয়ে ফেলি এবং আগের চেয়ে অযোগ্য হয়ে পড়িন। কেননা অবাধ্যতার অভিশাপ অনেক। ‘তুমি শহরে ও মাঠে অভিশপ্ত হবে। তোমার ঝুড়ি ও তোমার মাখার পাত্র অভিশপ্ত হবে। তোমার গর্ভের ফল, তোমার জমির ফসল, তোমার গরুর বাছুর এবং তোমার মেষশাবক অভিশপ্ত হবে। তুমি যখন ভেতরে আসবে এবং যখন বাইরে যাবে তখনও অভিশপ্ত হবে। দ্বিতীয় বিবরণ ২৮:৭ অর্থ এবং ব্যাখ্যা সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হবে, এবং কেউ এক পথে পালিয়ে যাবে, কেউ অন্য পথে, এমনকি পালানোর জন্য যে কোনও উপায়েই তারা যেতে পারে। এ বাক্যাংশটি একটি সম্পূর্ণ বিজয় এবং শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় এবং ছত্রভঙ্গের প্রকাশ। ইব্রীয় ৪:১১ পদে রয়েছে, “অতএব আইস, আমরা সেই বিশ্রামে প্রবেশ করিতে যতœ করি, যেন কেহ অবাধ্যতার সেই দৃষ্টান্ত অনুসারে পতিত না হয়।” অবাধ্য হলে ভালো বিষয়ে অগ্রসর হওয়া যায় না। ইব্রীয় ৪:৬ পদে রয়েছে, “অতএব বাকী রহিল এই যে, কতকগুলি লোক বিশ্রামে প্রবেশ করিবে, আর যাহাদের নিকটে সুসমাচার অগ্রে প্রচারিত হইয়াছিল, তাহারা অবাধ্যতা প্রযুক্ত প্রবেশ করিতে পায় নাই;” অবাধ্যতা ও পাপের কারণে মানুষের অন্তর কঠোর হয়ে যায়। প্রভুর প্রতি অবাধ্যতা একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি ভয় জাগিয়ে তোলা উচিত। প্রভু অবাধ্যতাকে বিদ্রোহ, অবাধ্যতা (অহংকার), ভবিষ্যদ্বাণী, অন্যায় (অর্থের পিছনে ছুটতে) এবং মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করেছেন।
সন্তান ছেলে বা মেয়ে যা-ই হোক না কেন, কোনো কারণে যদি অবাধ্য হয়, তাহলে মা-বাবার চিন্তার শেষ থাকে না। বিশেষ করে অবাধ্য সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ভোগেন মা-বাবা। অনেক বাবা তো রীতিমতো কোনো কিছু চিন্তা না করে ত্যাজ্যপুত্রও ঘোষণা দিয়ে ফেলেন। মা-বাবার কাছ থেকে স্নেহ-মমতাসহ সন্তানের অন্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। সন্তানের লালন-পালন, পরিপুষ্টি, সংরক্ষণ, পরিবৃদ্ধি, সর্বোপরি আদর্শ মানুষ হিসেবে তার জীবন গঠন করার দায়িত্ব মা-বাবার। উপার্জন, শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও বহিরাঙ্গনের শ্রমসাধ্য দায়িত্ব পিতাকে পালন করতে হয়। আমরা অবাধ্য সন্তান মা-বাবার জন্য পরীক্ষা; কঠিন পরীক্ষা! যার সন্তান হয় না সে জানে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়েও একটি সন্তান বেশি মূল্যবান।

মা-বাবার কাছ থেকে স্নেহ-মমতাসহ সন্তানের অন্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। সন্তানের লালন-পালন, পরিপুষ্টি, সংরক্ষণ, পরিবৃদ্ধি, সর্বোপরি আদর্শ মানুষ হিসেবে তার জীবন গঠন করার দায়িত্ব মা-বাবার। উপার্জন, শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও বহিরাঙ্গনের শ্রমসাধ্য দায়িত্ব পিতাকে পালন করতে হয়। অভ্যন্তরীণ কাজ-কর্ম, শিশুর লালন-পালন ও প্রাথমিক শিক্ষার মতো মৌলিক ও ধৈর্যসাধ্য কাজগুলো সাধারণত মায়ের ওপর বর্তায়। শিশু নির্দোষ প্রকৃতি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। তাকে দৈহিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলে উপযুক্ত নাগরিক করার দায়িত্বও মা-বাবার। আর আমরা ঈশ্বরের সন্তান; ঈশ্বরের সন্তান অবাধ্য হয়ে পাপ করলে সেই সন্তানের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে আসে। কলসীয় ৩: ৫ ও ৬ পদে রয়েছে, “অতএব তোমরা পৃথিবীস্থ আপন আপন অঙ্গ সকল মৃত্যুসাৎ কর- যথা বেশ্যাগমন, অশুচিতা, মোহ, কুঅভিলাষ, এবং লোভ, ইহা ত প্রতিমাপূজা। এই সকলের কারণ অবাধ্যতার সন্তানগণের প্রতি ঈশ্বরের ক্রোধ উপস্থিত হয়।”

বর্তমান যুগে কিছু মানুষের মধ্যে অনলাইনে এসে বিভিন্ন বিষয়ে (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) অহেতুক কথাবার্তা বলার প্রবণতা বেড়েছে। যে বিষয়ে তাদের পড়াশোনা কিংবা পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই, সে বিষয়েও তারা যা ইচ্ছা তাই বলার চেষ্টা করে। নিজের ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান ও বয়স বিবেচনা না করেই সববিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভাব নেয়ার চেষ্টা করে; অথচ অনর্থক কথা-কাজ শোভনীয় নয়। কারণ, কখনো কখনো শুধু দুষ্টামির ছলে কিংবা ভাইরাল হওয়ার আশায় বলা একটি অপরিপক্ব উক্তি সারাজীবনের কান্নার কারণ হতে পারে। অনেকে আছে মানুষকে বিনোদন দিতে অনলাইনে এসে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। মানুষকে আনন্দ দেয়ার উদ্দেশ্যেও অনর্থক কথা বলার অনুমতি নেই। আবার কেউ কেউ মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্যে ভিডিও তৈরি করে। কারণ, এ ধরণের নেতিবাচক ভিডিওগুলো মানুষ বেশি দেখে, অথচ মানুষকে কষ্ট দিতে অনর্থক কথা বলা আরো ভয়ঙ্কর। অতএব, আমাদের সবার উচিত, সবধরণের অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা। কথা মার্জিত, ন¤্র ও নিম্নস্বরে বলার চেষ্টা করতে হবে। সাথে সাথে অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথা পরিত্যাগ করতে হবে। মানুষ সারাদিন যতো কাজ করে এর সবগুলোই কল্যাণকর ও যৌক্তিক হয় না। অনেক কিছুই থাকে অনর্থক, যার কোনো অর্থই থাকে না। তবে প্রতিটা কাজের ফলাফল নিয়ে ভাবেন না সবাই, ইচ্ছে-খুশি বলে যান, করে যান কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই। কিন্তু কখনো কখনো শুধু অসতর্ক কথা-কাজই মানুষের লেজে-গোবরে অবস্থা করে দেয়। অনেক সময় পড়তে হয় বড় বিপদে। কখনো কখনো একটি কথা সারা জীবনের দুঃখের কারণ হতে পারে। অনেক লোক অন্যের সাথে তাদের কথোপকথনে ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে এবং নৈতিকতা বা নম্রতার বিবেচনা করে না। গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেয়া এবং অর্থবহ কাজে ব্যস্ত হওয়ার উপকারিতা ব্যাপক। আত্মা যদি আনুগত্যের কাজে সম্পৃক্ত না হয়, তবে সে পাপে জড়িয়ে পড়ে। যারা মানুষের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করে, তারা নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে জানে না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চায় লিপ্ত হয়ে তাদের সম্মান ক্ষুণœ করে। পক্ষান্তরে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ এবং অর্থবহ কাজে সম্পৃক্ততা তার সময় সাশ্রয় করে এবং তার কল্যাণকর কাজকে গতিশীল করে। তাছাড়া সম্পদ সংরক্ষণ, উপার্জন বৃদ্ধি, সৎকর্ম সম্পাদন ও দৃঢ়তাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও পারস্পরিক সহযোগিতা করা ইত্যাদি কাজ সম্পাদন সমাজে তাঁর উচ্চাসন নিশ্চিত করে। আর হৃদয় হচ্ছে মানবদেহের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই একে খারাপ চিন্তা, মন্দ পরিকল্পনা এবং দূষিত ইচ্ছা থেকে রক্ষা করা দরকার। নিষিদ্ধ আকাক্সক্ষা এবং সন্দেহপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ অনর্থক কাজ, অপ্রয়োজনীয় চিন্ত-াভাবনা এবং নিস্ফল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে এমন কিছুতে ব্যস্ত রাখা যার কোনো স্বার্থকতা নেই। যদি কোনো ব্যক্তি এমন জিনিসের দিকে তাকায়, যা দেখা তার জন্যে বৈধ নয়; তবে এটি তার অনর্থক কাজে জড়ানো হিসেবে গণ্য হবে। এটি হয়তো এমন মনোরম চিত্র বা এমন কিছু পড়া; যা’ দেখা বৈধ নয়; কিংবা এমন কিছু, যা’ কুপ্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে বা মনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। এটি জিহ্বার সাথেও সম্পর্কিত। আর তা’ হলো মানুষের এমন বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকা, যার কোনো অর্থ নেই। যেমন-পরনিন্দা করা, সমালোচনা করা, মানুষের সম্ভ্রম নিয়ে সমালোচনা করা, অপ্রয়োজনে প্রশ্ন করা এবং অতিরিক্ত কথা বলা। ‘যার কোনো অর্থ নেই’ এমন বাক্য বলতে কী বোঝায়? কিন্তু মানুষের উপর যখন কোনো কাজ কষ্টসাধ্য হয়, তখন সে এমন কাজে ব্যস্ত হয়, যা তার কোনো উপকারে আসে না। যখন কোনো ব্যক্তি প্রতারিত হয়, তখন সে অন্যকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমন সময় মানুষ নিজেকে ভুলে যায় এবং সে নিজেকে সংশোধন করে না। আর তার দোষত্রুটি শুধরে নেয়ার চেষ্টা করে না। এখন মানুষ একজন আরেকজনের জবান থেকে নিরাপদ থাকাতো দূরের কথা, উল্টো সর্বদা ভয়ে থাকতে হয়; কখন না আবার অন্যের কথা কথার বদলায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ইফিষীয় ৫:৬ পদে রয়েছে, “অনর্থক বাক্য দ্বারা কেহ যেন তোমাদিগকে না ভুলায়; কেননা এই সকল দোষ প্রযুক্ত অবাধ্যতার সন্তানগণের উপরে ঈশ্বরের ক্রোধ বর্তে।” ইফিষীয় ২:২ পদে রয়েছে, “সেই সকলেতে তোমরা পূর্বে চলিতে, এই জগতের যুগ অনুসারে, আকাশের কর্তৃত্বাধিপতির অনুসারে, যে আত্মা এখন অবাধ্যতার সন্তানগণের মধ্যে কার্য করিতেছে, সেই আত্মার অধিপতির অনুসারে চলিতে।” ২ করিন্থীয় ১০:৬ পদে রয়েছে, “আর তোমাদের আজ্ঞাবহতা সম্পূর্ণ হইলে পর সমস্ত অবাধ্যতার সমুচিত দণ্ড দিতে প্রস্তুত আছি।”

প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫ খ্রি.

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like