

সুমন কুমার দত্ত :
টানা দৌড়ঝাঁপ, রোদ-বৃষ্টি গায়ে মেখে একাকার ক্লান্ত দেহ, তখনও দিনের হিসেবে সিডিউল গড়মিল। তালিকা ধরে আবারও ছুটে চলেছি সময়ের ডাকে। পথ চলতে গিয়ে কথার হোঁচট খেয়েছি বহুবার, ভেঙে পড়িনি বরং ছুটেছি আপনমনে। এভাবে দিনের পর দিন সাহিত্য একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে একটা পথপরিক্রমার অধ্যায় শেষ হতে লাগলো। এরমধ্যে সেদিন, নির্বাচনের ঠিক তিনদিনের পূর্ব মুহুর্তে শহরের বাইরে যারা আছেন তাদের প্রায় অনেকের সাথেই নির্বাচনী সাক্ষাত শেষে যখন নিজ শহরে ফিরে আসি ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন এগারোটা ছুঁই-ছুঁই।

মিশন রোডের মাথায় নির্দিষ্ট জায়গায় আমার নিজ ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পার্কিং করতে গিয়ে ডান পা নাড়াচাড়া করতে পারছিলাম না। বহু কষ্টে মোটরসাইকেল থেকে নেমে মাটিতে পা রাখলাম তখনও খুব ব্যাথা অনুভব হচ্ছিল। তারপরও মনের জোরে আস্তে আস্তে কয়েক কদম এগিয়ে গেলাম। যেখানে আমার সাহিত্যপাড়ার সহকর্মীবৃন্দ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীবৃন্দসহ আরো অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন। সবাই আমার খোঁজ নিলেন আন্তরিকভাবে। সামান্য একটু চোট লেগেছে বলে আমি বিষয়টি এড়িয়ে গেলাম তাঁদের কাছে। কিন্তু যন্ত্রণা তখন আরো বেশি তরান্বিত হচ্ছিলো। এমন একটা অবস্থা হয়েছে হাঁটা তো দূরের কথা, ব্যাথার তীব্রতায় পা ব্যালেন্স রাখতেই পারছিলাম না।
তবুও দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করেছি। ঐ মুহুর্তে নিজেকে নিজেই মোটিভেট করেছি, বয়োজ্যেষ্ঠদের সান্নিধ্যলাভে আর্শিবাদ, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা চেয়ে হেঁটেছি বহুদূর। আমার ব্যাথাই আমাকে বলে দিচ্ছে আমি পেরেছি সকলকে জাগান দিতে। বিশ্বাস করুন ঐদিনের ঐ সত্যিকারের অনুভূতিই আজ সত্য সুন্দর। সত্যিই আমি পেরেছি, আপনাদের স্নেহ, ভালোবাসা ও আর্শিবাদ অর্জন করতে। ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য সাহিত্য একাডেমির নির্বাচনে আপনাদের দেওয়া অতি মূল্যবান ৭২টি ভোট পেয়ে ‘নির্বাহী সদস্য’ পদে আমি জয় লাভ করতে সক্ষম হই।
যা আমার ব্যক্তি জীবনে অনেক বড় একটা আনন্দময় অধ্যায় এবং সেই সাথে আমি ঋণী চিত্তে স্বীকার করি এই জয় আমার একার নয়, এই জয় আপনাদের সকলের পাশাপাশি এটাও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি আমি আজ যতটুকু উদ্ধেলিত, আপনারও তাই। সম্মানিত বয়োজ্যেষ্ঠজন ও সম্মানিত সহকর্মীবৃন্দ (ভোটার) আপনাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা চিত্তে বলতে চাই, যে মূল্যবান ৭২টি ভোট আমাকে দিয়েছেন তা শুধু নিছকই ভোট নয় কিন্তু।
এখানে প্রকাশ পেয়েছে আপনাদের আন্তরিক স্নেহ, আন্তরিক ভালোবাসা, দোয়া ও আর্শিবাদ সর্বোপরি আমার প্রতি আপনাদের আন্তরিক বিশ্বাস। যে বিশ্বাসের মূল্য আমি এ জীবনে কখনোই কোন অবস্থায় পরিশোধ করার সক্ষমতা রাখিনা। তবে এইটুকু কথা রাখতে পারি, যে রায় আমাকে দিয়েছেন তা পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্ছটুকু দিয়ে কাজ করে যাবো প্রতিনিয়ত। চলতে গিয়ে যখনই পথ আটকে যাবে আপনাদের স্বরনাপন্ন হবো, পরামর্শ নিবো এবং আপনাদের দেওয়া দিকনির্দেশনা নিয়েই আলোর পথে হাঁটবো।
লেখায় ইতি নিবো। তার পূর্বে আরো কয়েকটি লাইন না লিখলে একটা অপরাধবোধ থেকে যাবে। গত ৩১ মে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে ‘সাহিত্য একাডেমির নির্বাচন ও আমার অনুভূতি’ শিরোনামে আমার একটি লেখা ছাপা হয়। যেখানে নির্বাচন পূর্ব মুহূর্তে সম্মানিত সদস্য বা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে যে ভালোবাসা ও অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছি সে অনুভূতিটুকু তুলে ধরেছি। তারপরও কিছু কথা রয়ে গেছে না বল্লে একটা অকৃতজ্ঞতা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। আমি কারো নাম নিয়ে বলতে গেলে প্রায় সকলেরই নাম নিতে হয়। তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, নাম উল্লেখ করতে পারিনি বলে।
নির্বাচনের দিন খুব ভোরে এমন একজন মানুষের ফোন পেয়ে ঘুম ভেঙেছে, যার সামনে দাঁড়ালে আমি কথা বলায় বরাবরই এলোমেলো হয়ে যাই। এটি ভয় না শ্রদ্ধা সেটা বুজিনা আজো। ঘড়ি কাটায় সকাল ৯:২০ আমার বাবার বয়সী একজন ফোন করলেন, (যদিও উনাকে ভাই বলেই সম্বোধন করি) ফোন নাম্বার সেভ করা তাই সালাম দিয়ে আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই উনি বল্লেন শুধু তোমাদের জন্য আসছি। এখন লঞ্চে আছি। লঞ্চ থেকে নেমে তোমাদের ওখানেই আসবো। উনার সফরসঙ্গী যিনি ছিলেন তিনিও আমাদের অত্যান্ত শ্রদ্ধাভাজন একজন প্রিয় মানুষ। মনটা ভীষণরকম আনন্দে ভরে উঠলো। এই মানুষগুলো এত কষ্ট করে আমাদেরকে ভালোবেসে একটা ভোট (উৎসাহ) দেওয়ার জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকা থেকে ভোরে রওনা হয়েছেন।
এমন করে আরো অনেকেই এসেছেন। কেউ কেউ তো আগের দিনই চলে এসেছেন। এরপর চাঁদপুরের প্রায় সব কয়টি উপজেলা থেকে বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি আমাদের অন্যান্য সহকর্মীরাও এসেছেন। আর যারা আসতে পারেনননি তাঁরা ভোটের দিন ফোন করে কেউ আবার ম্যাসেজ দিয়ে দোয়া, আর্শিবাদ ও শান্তনা জানিয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে ভোট কোন বড় বিষয় নয়, ভোট ঘিরে এই আন্তরিকতার প্রাপ্তিই প্রকৃত অর্থে ভালোবার সঞ্চার। যা অন্য আর কোন বিনিময়ে নয় শুধুমাত্র হৃদয়ের গভীর উষ্ণতা দিয়ে জড়িয়ে রাখা সম্ভব। এরপর সময়ের সাথে-সাথে সবাই আসতে শুরু করলেন। একটা মিলনমেলায় রুপ নিলো চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আশপাশ।
প্রবীন নবীন মিশে একাকার। আনন্দ উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে চারদিক। একেক এক করে করে ৯৭ জন ভোটার আসলেন তাঁদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। যা সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রত্যাক্ষ ভোটে কমিটি নির্বাচন হলো। আর এই মহান উদ্যোগটি যিনি নিয়েছেন, তিনি আমাদের চাঁদপুরের বর্তমান মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়। যার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসায় আজ সাহিত্য একাডেমি একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে তার হারানো জৌলুস ফিরে পেলো।
সর্বশেষ আর অল্প কিছু কথা লিখেই শেষ করবো, সাহিত্য একাডেমির নির্বাচনে সেদিন ১২০ জন ভোটারের মধ্যে মোট ৯৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যার মধ্যে আমার প্রাপ্ত ভোট ৭২টি। তার মানে বাকী আরো ২৫ জন সম্মানিত ভোটারবৃন্দ আমাকে ভোট দেননি। আমি পূর্বেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছি এখনো করছি যারা আমাকে নির্বাচিত করেছে প্রতি। পাশাপাশি যে ২৫ জন সম্মানিত ভোটারের ভোট পাইনি তাঁদের কাছেও আমি ভীষণরকম কৃতজ্ঞ। কারন আপনাদের হয়তো কোথাও মনে হয়েছে আমার চলার পথে ভুল বা ভ্রান্তি ছিলো বা আছে। আমি চেষ্টা করবো তা শুধরে, আগামীতে আপনাদের একজন হয়ে উঠতে। তবে হ্যাঁ যে ৭২ জন সম্মানিতরা আমাকে ভালোবেসে রায় দিয়েছেন তা আমি ভালোবাসায় মনিহার করে বুকে রাখবো সর্বসময়।
লেখক পরিচিতি : সুমন কুমার দত্ত, নব-নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য, সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর
রোববার, ০৮ জুন ২০২৫
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন









