চাঁদপুরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ: এক নতুন দিগন্তের সূচনা

গতকাল প্রিয় সময়ে প্রকাশিত ‘শীঘ্রই চাঁদপুরে ৫০০ বেডের মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো কাজ শুরু হবে’ শিরোনামে সংবাদটি চাঁদপুরবাসীর জন্যে আনন্দের সংবাদ। চাঁদপুরবাসী আশায় বুধ বেঁধেছে এবং এক নতুন দিগন্তের সূচনার স্বপ্ন দেখছে। আর একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং স্বাস্থ্যসেবায় চাঁদপুরের জনগণের জন্যে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তার এ ঘোষণাটি চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড উদ্বোধনের মতো একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সময় এসেছে, যা’ এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে চলমান উন্নতির ধারাকে আরো বেগবান করবে। একটি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসা প্রদানের কেন্দ্র নয়, এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ৫০০ শয্যার এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলে চাঁদপুর ও এর আশেপাশের জেলার মানুষ উন্নত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পাবে। যার জন্যে বর্তমানে তাদের প্রায়শই ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হয়। এতে মানুষের সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি অনেক কমে আসবে। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত সেবা প্রাপ্তি একটি বড় স্বস্তির কারণ হবে।

বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ খাতকে উন্নত করার জন্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এ খাতকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। চাঁদপুরে প্রস্তাবিত এ মেডিকেল কলেজটিও সরকারের সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই একটি অংশ। এটি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবার মানকে উন্নত করবে। তেমনি এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্যে চিকিৎসা শিক্ষার দুয়ার খুলে দেবে। এখন থেকে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ শহরেই মেডিকেল পড়ার সুযোগ পাবে। যা’ তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করবে। এ মেডিকেল কলেজের সফল বাস্তবায়নের জন্যে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। অবকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং সর্বোপরি একটি মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসাথে, হাসপাতালের নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের কাজের পরিবেশ উন্নত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক তার বক্তব্যে নার্সদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের যে আহŸান জানিয়েছেন, তা’ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তারাই রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভ‚মিকা রাখেন।

চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রস্তাবিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজটি এ উন্নতির ধারাবাহিকতাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আশা করি, এ প্রকল্পটি দ্রæত বাস্তবায়ন হবে এবং চাঁদপুরবাসীর জন্যে স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ উদ্যোগটি শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়; এটি উন্নত জীবন এবং সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি প্রতিশ্রæতি।

সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়

You might like