

সম্পাদকীয়
প্রিয় সময়ে ‘চাঁদপুরের এক বন কর্মকর্তারই ১৬ স্ত্রী! দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে এক ভদ্রলোকের এমন কমকাণ্ড জেনে আমরা হতবাক হয়েছি। এটি যদিও অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যিকারে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা জানতে পেরেছি, সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ১৬টি বিয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা’ সমাজে এক চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের কেচ্ছা নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা এবং আইনের প্রতি এক নগ্ন অবহেলার দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরি, বিদেশে পড়াশোনা, কিংবা সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে তিনি একের পর এক বিয়ে করেছেন এবং পরে যৌতুক ও নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এ গুরুতর অভিযোগগুলো দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতিও এক বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এ ঘটনাটি স্পষ্টতই প্রমাণ করে, কিভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার পদমর্যাদা এবং সামাজিক অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা থানা, আদালত এবং এমনকি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি। একবার গ্রেপ্তার হয়েও তিনি দ্রæত জামিনে বেরিয়ে এসেছেন, যা’ আইনের ফাঁকফোকর এবং প্রভাবশালী মহলের সহায়তার দিকেই ইঙ্গিত করে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, যেখানে আইন সবার জন্যে সমান হওয়ার কথা, সেখানে একজন ব্যক্তি বারবার আইনকে ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সর্বশেষ ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তারকে বিয়ের মাত্র দু’দিনের মাথায় তার বাবার বাড়ির অংশ লিখে দেয়ার দাবি তোলেন। এ ধরনের নির্লজ্জ লোভ এবং মানসিক নির্যাতন একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। বন কর্মকর্তার এ অপকর্ম কেবল তার ব্যক্তিগত চরিত্রেরই প্রতিফলন নয়; বরং এটি সমাজের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরে। যেখানে নারীরা নিজেদের অধিকার এবং নিরাপত্তার জন্যে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন, সেখানে এমন একজন সরকারি কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।
এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এখন প্রশ্ন হলো, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি এ অভিযোগের তদন্ত করছে। আমরা আশা করি, এ তদন্ত কেবল আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দোষী প্রমাণিত হলে কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তিনি কেবল তার পদ থেকে বরখাস্তেরই যোগ্য নন; বরং তার সমস্ত অপকর্মের জন্যে আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
আমরা মনে করি, এ ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে, বিশেষ করে সরকারি উচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে। কবির হোসেন পাটওয়ারীর মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই প্রমাণ করবে যে, আমাদের সমাজে এখনো ন্যায়বিচার জীবিত আছে। আরা আমরা সেই ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করছি।
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫









