সফরমালীর গরুর বাজার বন্ধ হওয়ায় শঙ্কায় জীবন গবাদি পশু পালনকারীসহ ব্যবসায়ীদের

সজীব খান :

চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালী পশুহাটটি এখন শুধু মানুষের মুখে আছে,স্মৃতিতে, বাস্তবে ‘মৃত’। কারণ, হাটটি ইজারা কারন দেখিয়ে প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। জেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এ গরুর বাজার বন্ধ হওয়ার কারণে বর্তমানে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দুর্ভোগে রয়েছে, কারণ এটি একটি পশু কেনা-বেচার হাট নয়, শত শত লোকের কর্মের ব্যবস্থা।

এ বাজারকে ঘীরে, সিএনজি,অটো, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের একমাত্র প্রধান আয়ের উৎস ছিল, সেই সাথে বাজারকে ঘিরে প্রায় অর্ধশতাধীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, চা বিস্কুট সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা এখন শুধু চোখে মুখে শস্য ফুল দেখছে। জেলার সবচাইতে বৃহৎ সফরমালী গোহাটটি বন্ধ থাকার কারণে শত শত মানুষের আয়ের উৎস একেবারে বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।

এখানেই শেষ নয়, সফলমালীর গরুর বাজারটি অর্থ দিয়ে আশপাশের এতিমখানা মসজিদ মাদ্রাসা যে অনুদান পেতো, সে অনুদান পাওয়া বন্ধ হওয়ার কারণে ও তাদেরকে সেসব প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশীল খেতে হচ্ছে, একটা বাজারকে ঘিরে কত লোকের জীবিকা, কত মাদ্রাসা মসজিদ এতিমখানা পরিচালনা হতে সহায়তা পাওয়া তার হিসাব নিকট বিশ্লেষণ করা খুব একটা সহজ নয়।

সফরমালী গরুর বাজার বন্ধ থাকায় ক্রেতারা পশু কিনতে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা তাদের পশুপালন ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ চলমান বাধার সমস্যার শেষ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সফমালীর গরুর বাজার বন্ধ হওয়ার পর অনেক গবাদি পশু পালনকারী উদ্যোক্তা গবাদি পশু পালনে নিরুৎসাহী হয়ে পড়েছে । অনেক উদ্যোক্তা গবাদি পশু পালনের জন্য গোঘর বানিয়ে খালি ফেলে রেখেছে। অনেক ব্যবসায়ী ও পশুপালকের জন্য সফরমালী গরুর হাট তাদের আয়ের প্রধান উৎস। বাজার বন্ধ হওয়ায় অনেকে তারা বিকল্প পেশার সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের জীবিকাতেও প্রভাব ফেলে।

সফরমালের গরুর বাজারটি নদীকেন্দ্রিক হওয়া চাঁদপুর জেলা বাহির থেকেও অন্যান্য জেলা থেকে গরু ক্রেতা বিক্রেতা উভয় সফরমালীর ঔই গরুর বাজারের উপর নির্ভরশীল ছিল অনেকাংশে। তারাও বাজার কি বন্ধ হওয়ার কারণে অনেকটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সফরমালীর এই বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেন চাঁদপুর-৩ নির্বাচনে এলাকার সাবেক এমপি মরহুম হারুনুর রশিদ খান, তিনি মফস্বলের এ বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেন চাঁদপুরের এই অঞ্চলের মানুষের গরু বেচাকিনা বিক্রির সুবিধা এবং শিক্ষিত বেকার তরুণ প্রজন্মকে গবাদি পশু পালনে উৎসাহের জন্য। বাজারের পুরো সম্পত্তি তার নিজস্ব ক্রয়কৃত। সরকারি কোন সম্পত্তির উপরে এই বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে সফরমালীর গরুর বাজারটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন, একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মরহুম সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ খান বাজারটি গড়ে তুলেন।

সফরমালী একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকাল তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, অনেক স্বপ্ন আশা নিয়ে সফরমালী বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন, হঠাৎ গরুর বাজারটি বন্ধ হওয়ায় কারণে ব্যবসায়িকভাবে তারা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অনেক ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত হয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছেন, তারা দ্রুত বাজারটি প্রশাসনিকভাবে অনুমতি দিয়ে চালু করার জন্য বাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like