

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ তানভীর হাসানের মতে, এলাকার প্রায় ৩২টি প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সাথে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান। এটি শুধুমাত্র স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অংশ নয়; বরং বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের একটি বড় চ্যালেঞ্জের সূচনা।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভ‚মিকা অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ে, যেখানে সরকারি সুবিধা সীমিত, সেখানে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো জনগণের প্রধান আশ্রয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অতিরিক্ত চার্জ, অযোগ্য চিকিৎসক নিয়োগ এবং বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল)-এর অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমাগত উঠে আসছে। হাজীগঞ্জের ক্ষেত্রে ডা. তানভীর হাসানের উল্লেখ করা অভিযোগগুলোÑযেমন অনুমোদিত পদপদবী ছাড়া অতিরিক্ত বেড ব্যবহারÑএই সমস্যার প্রতিফলন ঘটায়। তিনি জানান, শীঘ্রই সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কারণ এর ফলে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরো নিরাপদ হতে পারে। কিন্তু এ ঘোষণা শুধু হাজীগঞ্জের নয়, পুরো দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্যে একটি সতর্কবার্তা।

চাঁদপুর জেলায় মোট ২৭৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে, যার বেশিরভাগই বেসরকারি। সাম্প্রতিক সময়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরে আলমের সাথে প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের মতবিনিময় সভায়ও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান সেবামূলক, লাভমুখী নয়Ñএবং সরকারি নীতিমালা মেনে চলতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে দেখলে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যেমন ভুল চিকিৎসা বা অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার। হাজীগঞ্জের মতো উপজেলায় এ সমস্যা যদি সমাধান না হয়, তাহলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
এখানে প্রশ্ন উঠছে, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠি পাঠিয়ে বা ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য নিয়ে কি সমস্যার মূলোৎপাটন সম্ভব? নিশ্চয়ই না। সরকারকে দরকার একটি সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক: নিয়মিত অডিট, জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন এবং বিএমডিসির সাথে সমন্বয়। উদাহরণস্বরূপ, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মডেল হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা’ সরকারি সুবিধার মান উন্নয়নের উদাহরণ। এর পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরকেও একই মানের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। জনগণের পক্ষ থেকে অভিযোগের জন্যে একটি হটলাইন বা অ্যাপ-ভিত্তিক সিস্টেম চালু করা যেতে পারে, যাতে অভিযোগগুলো দ্রæত মীমাংসিত হয়।
ডা. তানভীর হাসানের এ উদ্যোগ স্বাগতম, কারণ এটি দেখায় যে স্থানীয় পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ সচেতন হয়ে উঠছে। কিন্তু এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের উপর। যদি এ কঠোরতা শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ হয়, তাহলে জনগণের আস্থা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হাজীগঞ্জের ৩২টি প্রাইভেট হাসপাতালকে সঠিক পথে আনলে, চাঁদপুরের স্বাস্থ্যসেবা একটি নতুন মাত্রা লাভ করতে পারে। আশা করি, এ পদক্ষেপগুলো কেবল শুরু নয়, একটি টেকসই পরিবর্তনের সূচনা হবেÑযাতে প্রত্যেক নাগরিক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ চিকিৎসা পায়।
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫











