আমতলীর পায়রা নদীর তীরে এক মর্মান্তিক নিঁখোজ ও করুণ পরিণতি

সম্পাদকীয়:

প্রিয় সময়ে ‘আমতলীতে নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি শিশুর করুণমৃত্যু সংবাদ। প্রকাশিত সংবাদে রয়েছে, আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া গ্রামে পিতার কাছে বেড়াতে আসা সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকার পান্না (১৩) নামের এক শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং একদিন পর পায়রা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি সমগ্র এলাকায় এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

জানা গেছে, পায়রা নদীর তীরে বøক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সফিকুল ইসলাম গাজী তাঁর পুত্র পান্নাকে দশদিন আগে বেড়াতে এনেছিলেন। শুক্রবার রাতে পান্না নিখোঁজ হলে রাতভর খোঁজাখুঁজি ও মাইকিংয়ের পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন সন্ধ্যায় জিও ব্যাগের ফাঁকে তার লাশ উদ্ধারের মধ্যদিয়ে সফিকুল ইসলাম গাজীর ‘সব শেষ হয়ে গেল’ মর্মে যে কান্না, তা’ যেন দারিদ্র্যপীড়িত শ্রমজীবী মানুষের জীবনের চরম অসহায়ত্বকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনাটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। পান্নার বাবা যেখানে কাজ করছিলেন, সেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বøক নির্মাণ কাজ চলাকালীন নদীরপাড়ে শ্রমিকের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতোটুকু নিশ্চিত করা হয়েছিলো? নির্মাণাধীন স্থান ও নদীর তীর- যেখানে ভাঙনরোধের কাজ চলছেÑসেখানে শিশুদের জন্যে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিলো কি না, তা’ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

যদিও আমতলী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু কেবল ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় না থেকে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং নির্মাণস্থলে শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিলো কি না, তা’ নিবিড়ভাবে তদন্ত করা জরুরি।

পান্নার অকালমৃত্যু নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার এক করুণ দলিল। শ্রমজীবী মানুষের সন্তানরা যেন কাজের পরিবেশের শিকার না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা থাকা আবশ্যক। কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সকল নির্মাণস্থলে কঠোর নিরাপত্তা বিধিমালা প্রণয়ন এবং তা’ যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পান্নার এ করুণ পরিণতি যেন দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বিবেককে জাগ্রত করে, এটাই আজকের দিনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

১৭ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি.

You might like