পঞ্চগড়ে নির্বাচনী হলফনামায় ফরহাদ ও তার স্ত্রীর সবই আছে, কিন্তু কি ব্যবসা তা উল্লেখ করেননি

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদের বাড়ি গাড়ি সম্পদ, টাকা, সোনাসহ সবই আছে। স্ত্রীও ব্যবসায়ী। আয়কর দেন। কিন্তু কি ধরণের ব্যবসা করেন তা ফরাদ ও তার স্ত্রীর জানাননি।

নির্বাচনী হলফনামায় তিনি নিজের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। এই ব্যবসা থেকে বছরে ২০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা আয় আসে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে স্বামী স্ত্রী কি ব্যবসা করেন তা স্পষ্ট করেননি ফরহাদ হোসেন আজাদ।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, ফরহাদ হোসেন আজাদের নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫ টাকা। পাশাপাশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তিন কোটি এক লাখ ৪৩ হাজার ১৩৯ টাকা দেখানো হয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে দুটি বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ২২ লাখ ও ২৭ লাখ ২৪২ টাকা। গাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন এক কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার। তবে কতটি, কি গাড়ি তার কোন ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে তার ১১ ভরি সোনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এলএলবি। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তার নামে বাড়ি, গাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। আয়কর রিটার্নে তিনি বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ২৭ লাখ ৩৯৮ টাকা উল্লেখ করেছেন। এজন্য আয়কর দিয়েছেন ৩০ হাজার ৭৪০ টাকা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন তবে হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা হিসেবে ব্যবসা দেখানো হয়েছে। আগের পেশা ছিল স্ত্রী গৃহিনী। তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দুই লাখ ৪৯ হাজার টাকা। আছে ১০৮ ভরি সোনা। আছে পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র। এখন সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ টাকা। তিনি এবং স্ত্রী কি ধরণের ব্যবসা করেন তা উল্লেখ করা হয়নি। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৪৫ লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৮ টাকা দেখিয়েছেন। এজন্য তিনি ১০ হাজার ৫৮৭ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদের নামে দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে। ২০০১ সালে এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি। ২০১১ সালে শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয় যা ২০১৭ সালে স্থগিত হয়।

তিনি নিজস্ব আয় থেকে নির্বাচনে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। তিনি ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন ও অন্যদের টাকায় নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে এক ভাই দিবেন ১০ লাখ, তিন বোন দিবেন ১৫ লাখ, চাচা, মামা, শাশুড়ি, শ্বশুর ৫ লাখ করে, ধার নিবেন দুই লাখ, আত্বীয় স্বজন ৯ এমন দুই জনের কাছে নিবেন ১০ লাখ টাকা নিয়ে নির্বাচনী খরচ মিটাবেন।

অন্যান্য সম্পদ ও দায়দেনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজে রোডে ৭৩৪ শতাংশের জমির মূল্য ৫ লাখ ২২ হাজার, যদিও কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণাধীন তা উল্লেখ করেন নি। ধানমন্ডি এলাকায় বাসার মূল্য ১৭ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা, রংপুর রেডিসন স্পেশালাইড হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকার শ্যায়ারের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রকাশিত/ বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like