নির্বাচন বর্জনের হুমকি—গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত

সম্পাদকীয়:

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অভিযোগ ও সম্ভাব্য নির্বাচন বর্জনের ইঙ্গিত নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা একদিকে গণতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যৌক্তিকতা তৈরির প্রস্তুতিও হতে পারে।

জামায়াত ও এনসিপি অভিযোগ করছে যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কার্যত বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। এমনকি প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হচ্ছে। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়, তবে একই সঙ্গে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতে এমন নজির রয়েছে যে প্রতীক বরাদ্দের পরও কোনো দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। নির্বাচনী পরিবেশ অতীতের তুলনায় ভারসাম্যহীন, এবং বিএনপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ধারণা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে ক্ষমতার সম্ভাব্য কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে পারে।

নির্বাচন বর্জনকে ‘আলটিমেট বার্গেইনিং টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। এতে গণতন্ত্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে এবং দেশ অজানা পথে চলে যেতে পারে। বিরোধী দলগুলো যদি মাঠে না থাকে, তবে জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সমর্থকদের মনোবল বড় ধাক্কা খাবে।

জাতীয় পার্টির নির্বাচনে থাকা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়ায়। এতে নির্বাচন পুরোপুরি একতরফা বলে চিহ্নিত করা কঠিন হবে, যদিও এটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনও বলা যাবে না।

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন সব সময়ই ছিল, এমনকি ভালো নির্বাচনগুলোতেও। তাই আশঙ্কা বা অভিযোগের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো গণতন্ত্রকে আরও দুর্বল করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা। নির্বাচন বর্জন নয়, বরং অংশগ্রহণই দেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy