অসময়ে বইমেলার আয়োজন : প্রকাশকদের অভিযোগ লোকসানের অন্ত নেই

সম্পাদকীয়

বাংলা একাডেমির রমজানের মধ্যে বইমেলা আয়োজন প্রকাশকদের জন্য বড় ধরনের লোকসান ডেকে এনেছে। অনেক প্রকাশক অভিযোগ করেছেন, পাঠকসমাগম কম হওয়ায় বিক্রি আশানুরূপ হয়নি এবং স্টল সাজানো ও কর্মচারী খরচ মিলিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

– রমজান মাসে আয়োজন: প্রকাশকদের মতে, রোজার সময় পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে আগ্রহী হন না। ফলে মেলা প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
– একতরফা সিদ্ধান্ত: প্রকাশকরা অভিযোগ করেছেন, বাংলা একাডেমি প্রকাশকদের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে সময় নির্ধারণ করেছে।
– লোকসান: অনেক প্রকাশক যেমন প্রিয় বাংলা প্রকাশক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, স্টল সাজানো ও কর্মচারী খরচ মিলিয়ে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৩,৭০০ টাকা।

প্রকাশকদের প্রতিক্রিয়া
– প্রিয় বাংলা প্রকাশনীর প্রকাশক জসিম উদ্দিন: “বাংলা একাডেমি ও তার ডিজির গোয়ার্তুমি ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে আমরা নিদারুণ লোকসানে পড়েছি।”
– অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম: বাংলা একাডেমির দেওয়া বিক্রির হিসাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো তথ্য নেওয়া হয়নি।
– প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে বিবৃতি: তারা বলেছে, রোজার দিনে বইমেলা আয়োজন পাঠকশূন্য মেলা তৈরি করেছে, যা প্রকাশকদের জন্য নিশ্চিত লোকসান।

বাংলা একাডেমির অবস্থান
– বিক্রির হিসাব: বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের ১৮ দিনের মেলায় প্রায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। তবে প্রকাশকরা এই হিসাবকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন।
– উচ্ছ্বাস বনাম বাস্তবতা: একাডেমি বলছে মেলা সফল, কিন্তু প্রকাশকদের মতে এটি ছিল “নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা”।

প্রকাশকদের লোকসান: কারণ বিশ্লেষণ
স্টল খরচ: ভাড়া, সাজসজ্জা ও কর্মচারী নিয়োগে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে।
পাঠক সমাগম কম: রোজার কারণে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় দর্শনার্থী কম ছিল।
বিক্রি আশানুরূপ নয়: ছুটির দিন ছাড়া বই বিক্রি ছিল খুবই কম।
অপরিকল্পিত সময়সূচি: ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চে মেলা আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।

আরও প্রকাশকদের মতামত
– সেলফ-পাবলিশারদের অভিযোগ: ছোট প্রকাশকরা বলছেন, তারা বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারেননি।
– বড় প্রকাশকরা: তাদের মতে, লোকসান কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে মেলার পরিবেশ ছিল হতাশাজনক।
– স্টল কর্মীরা: অধিকাংশই ছাত্র, তারা বলছেন রোজার দিনে দীর্ঘ সময় কাজ করা কষ্টকর ছিল।

বাংলা একাডেমির রমজানের মধ্যে বইমেলা আয়োজন প্রকাশকদের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর হয়েছে। প্রকাশকদের দাবি, ভবিষ্যতে মেলার সময় নির্ধারণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় বইমেলা হয়ে উঠবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে পাঠক নেই, বিক্রি নেই, আর প্রকাশকদের জন্য থাকবে লোকসানের বোঝা।

প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy