আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর মর্মন্তুদ বাস্তবতা

সম্পাদকীয়

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার অভাবে মাত্র ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভয়াবহ সংকটকে উন্মোচিত করেছে। এই ঘটনা শুধু একটি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

সংকটের চিত্র :  আড়াই বছরের নুসাইবা আইসিইউর অপেক্ষায় থেকে মারা যায়, তার মতো আরও ৩৩ শিশু একই পরিণতি ভোগ করেছে। মাত্র ১২ শয্যার শিশু আইসিইউতে শত শত রোগীর চাপ, যেখানে ঢাকা বিভাগ থেকেও রোগী আসছে।

অভিভাবকরা তদবির করেও সন্তানকে আইসিইউতে নিতে পারেননি, ফলে অসহায়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে শিশুদের।

কাঠামোগত দুর্বলতা : সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও নয়।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১,১২৬টি আইসিইউ শয্যা, বেসরকারি পর্যায়ে আরও প্রায় এক হাজার।

রাজশাহীতে নির্মিত বৃহত্তম ৬০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স এখনো সরকারি অনুমোদন পায়নি।

লক্ষ্মীপুরে নির্মিত শিশু হাসপাতালও জনবল কাঠামো অনুমোদনের অভাবে চালু হয়নি।

মানবিক বিপর্যয় : আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বীকার করেছেন, যথাযথ সেবা পেলে ৩৩টি শিশু বেঁচে যেতে পারত। অভিভাবকদের কান্না ও অভিশাপ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতার নির্মম সাক্ষ্য।

করণীয় : অবিলম্বে রাজশাহীর ৬০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স ও শিশু হাসপাতাল চালু করতে হবে। সরকারি পর্যায়ে আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি ও জনবল নিয়োগ জরুরি। স্বাস্থ্যসেবায় সদিচ্ছা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাব দূর করতে হবে।

শিশুদের মৃত্যু কোনো সংখ্যা নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানোর প্রতীক। রাজশাহীর এই মর্মন্তুদ ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে—স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা আর বিলম্ব মানে জীবনহানি। এখনই প্রয়োজন দৃঢ় সদিচ্ছা, কার্যকর পদক্ষেপ এবং মানবিক দায়িত্ববোধ।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy