

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভূতপূর্ব সংকটে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত দলটির জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পদত্যাগের ঢেউ এখন সুনামিতে পরিণত হয়েছে।
এই সম্পাদকীয়তে এনসিপির বর্তমান সংকট, পদত্যাগের কারণ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হবে।

পদত্যাগের ঢেউ: কেন্দ্র থেকে তৃণমূল
এনসিপির তৃণমূল ও মধ্যম সারির নেতাকর্মীরা জামায়াতের সঙ্গে জোটকে আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ডা. তাসনিম জারা, মীর আরশাদুল হকসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করেছেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতারা একযোগে পদত্যাগ করছেন।
অনেকেই বিএনপি, জামায়াত বা নতুন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিচ্ছেন।
পদত্যাগের কারণ
আদর্শিক বিচ্যুতি: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে আপসকে নেতারা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক কৌশলের ভুল: নির্বাচনী সমঝোতা দলটির মূল লক্ষ্যকে দুর্বল করেছে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: জেলা ও উপজেলা কমিটিতে অযোগ্য নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ।
আশা-আকাঙ্ক্ষার ভাঙন: পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এনসিপি গঠিত হয়েছিল ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান’ পরবর্তী পরিবর্তনের প্রত্যাশায়।
কিন্তু নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় দলটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিএনপি ও জামায়াতের দিকে পদত্যাগীদের ঝুঁকে পড়া এনসিপির সাংগঠনিক অস্তিত্বকে নড়বড়ে করছে।
নেতৃত্বের উদ্যোগ
শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগীদের ফেরাতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করছে।
বৈঠক করে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা চলছে।
তবে মাঠপর্যায়ে পদত্যাগীরা সিদ্ধান্তে অনড় থাকছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
এনসিপির পদত্যাগের সুনামি দলটির সাংগঠনিক কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে।
আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে দলটি তার মূল সমর্থন হারাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি যদি দ্রুত পুনর্গঠন না করে, দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এনসিপির সামনে দুটি পথ: আদর্শিক অবস্থানে ফিরে আসা অথবা রাজনৈতিক বাস্তবতায় আপস করা।
পদত্যাগীদের ফেরানো কঠিন হলেও নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া দলটির টিকে থাকা সম্ভব নয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমানে এক অভূতপূর্ব সংকটে রয়েছে। পদত্যাগের সুনামি দলটির অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা দলটির জন্য রাজনৈতিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে। এখন এনসিপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আদর্শিক অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় দলটির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।
প্রকাশিত : রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রি.











