

সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘিতে বিরোধের জেরে একটি পরিবারকে দীর্ঘ একমাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের বিহিগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে বিরোধের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এতে চরম কষ্টসাধ্যে মধ্যে জীবনযাপন করছে পরিবারটি।

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি মীমাংসার নামে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে অর্থ দাবী করছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিত্রাণ না পেয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান আবু মুসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের বিহিগ্রাম পশ্চিমপাড়ার আবু মুসার সঙ্গে তার প্রতিবেশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল সাহানা ও রশিদ সাহানার কোন একটি বিষয়ে বিরোধ চলছিল। এই শত্রুতার জের ধরে গত ১৮ মার্চ আবু মুসার বসতবাড়িতে যাওয়ার চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের অনুপস্থিতিতে কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২৪ মার্চ নিকটবর্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেয়।
তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পরের দিনই প্রতিপক্ষরা পুনরায় বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে তাদের অবরুদ্ধ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি মীমাংসার কথা বলে বাচ্চু নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা আবু মুসার কাছে অর্থ দাবী করেন। তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পরিবারের ওপর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নির্যাতন, গালিগালাজ এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী তাদের একপ্রকার একঘরে করে রাখা হয়েছে। যারফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন।
এ অবস্থায় স্থায়ী সমাধানের আশায় ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানান পুলিশ পাঠিয়ে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা আবার বেড়া দিয়েছে এবিষয়ে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.














