চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস মোড় সড়কে যানজট নিরসনে স্বস্তি, ডিভাইডার স্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার  :
চাঁদপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন ও সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের শৃঙ্খলা মধ্য দিয়ে নিশ্চিত চলাচল করতে ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন চাঁদপুরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বা টিআই এডমিন প্রবীর কুমার দাস।

তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ও আন্তরিকতায় এবং , দায়িত্ববোধের অবস্হান থেকে জনসেবামূলক মানসিকতায় শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়্যারলেস মোড়ে তিনটি সড়কে ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছে। আর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর থেকেই যান চলাচলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। নগরবাসীর মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি, আর প্রশংসায় ভাসছেন এই ট্রাফিক কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাস।

চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওয়্যারলেস মোড় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষের চলাচলে মুখর থাকে। শহরের বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে পুরো মোড়ে সৃষ্টি হতো ভয়াবহ যানজট। উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী এম্বুলেন্স এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী নাগরিকরা। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে অনেককে কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেরিতে পৌঁছার ও অনেক রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের টিআই (এডমিন) প্রবীর কুমার দাস। তিনি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রথমে যানজটের কারণগুলো চিহ্নিত করেন। পরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজ উদ্যোগে দেশের অন্যতম স্বনামধন্য ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ওয়্যারলেস মোড়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

ডিভাইডার স্থাপনের পরপরই মোড়টির চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করেছে। এখন যানবাহন নির্দিষ্ট লেনে চলাচল করছে, উল্টো পথে প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে এবং মোড়ে আগের মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর দেখা যাচ্ছে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসায় যানজটও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে পথচারীরাও নিরাপদে রাস্তা পারাপার করতে পারছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত কার্যকর ও জনবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি বড় কোনো প্রকল্প বা দীর্ঘসূত্রতার অপেক্ষা না করে একজন ট্রাফিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বশীলতা ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থ্য দিয়েও জনসেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব।

স্থানীয় সচেতন মহল আরও জানান, শহরের যানজট নিরসনে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ। টিআই প্রবীর কুমার দাস সেই বাস্তবতার উদাহরণ তৈরি করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, চাঁদপুর শহরের অন্যান্য ব্যস্ততম মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও যদি একই ধরনের ডিভাইডার ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়, তাহলে পুরো শহরের যানজট পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই টিআই প্রবীর কুমার দাসকে একজন মানবিক, কর্মঠ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। নাগরিকদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু যানজট কমায় না, বরং জনগণের মাঝে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি করে।

চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থে ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শহরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে চাঁদপুর আরও বাসযোগ্য ও স্বস্তির নগরীতে পরিণত হবে।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy