প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ফাঁস করলেন সাবেক সভাপতি

মনপুরা (ভোল) প্রতিনিধি।
ভোলার মনপুরা উপজেলা সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম,অসঙ্গতি এবং বিধিবহির্ভূত ভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৪ টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সভাপতি থাকাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও আর্থিক বিষয় সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। এমনকি তার স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষকদের বিল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও এই অনিয়ম এর অভিযোগ এনে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এর নিকট অভিযোগ পত্র দাখিল করা ।এতে কোন কার্যকারী দেখা যায়নি।

অতি দ্রুত জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে আত্মসাৎকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ জোর দাবি করেন।

আব্দুর রহমান আরো বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরার কারণে প্রধান শিক্ষক আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীতে আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে তার নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করেন। আমি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কথা বলেছি, কিন্তু তারই ফলস্বরূপ আমাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রয়েছে। আমি যেকোনো ধরণের সরকারি তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।” তবে সাবেক সভাপতি কে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ২৫% হারে টাকা না দেওয়াই এমন অভিযোগ করেন। তবে “উল্লেখিত অর্থ শিক্ষকদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত আকৃষ্ট থেকে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

প্রকাশিত : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ খ্রি

 

You might like

About the Author: priyoshomoy