শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগ : নওগাঁয় মধ্যরাতে হোটেলে পুলিশি হানা, গ্রেফতার ৫

সজীব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ জেলা পুলিশের সমন্বিত বিশেষ অভিযানে শহরের ৯টি হোটেলে গভীর রাতে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারক চক্রের চার সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কারের গলানো অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর থানা এলাকায় একই দিনে রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগ এবং প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার দুটি পৃথক ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনায়, নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকায় নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে ৭০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অচেতন করে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় ডিগ্রীর মোড় এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তিনি মারা যান।

দ্বিতীয় ঘটনায়, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজ এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে সম্মোহিত করে তাদের কাছ থেকে ৬ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনা দুটির পর নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত ও অভিযানিক দল গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের ৯টি হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী ও বাবলু এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কালামকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা বৃদ্ধ দম্পতির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি হওয়া কানের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারের মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে তাকে আটক করলে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তার দেখানো মতে গলানো অবস্থায় ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পূর্বেও চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে প্রতারণায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি
.

You might like

About the Author: priyoshomoy