বর্ষায় সরব চলনবিল: নৌকা বানানোর হিড়িক

জিল্লুর রহমান :
চলনবিলে বন্যার পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে শুরু করেছে জনজীবনের চিত্র। নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তেই নৌকার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি পুরনো নৌকা মেরামতের কাজেও দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তাড়াশ উপজেলার নৌকা কারিগররা।

বর্ষা মৌসুমে আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস চলনবিল অঞ্চলের অনেক গ্রাম ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। তখন যাতায়াত, মাছ ধরা, হাট-বাজারে যাওয়া কিংবা কৃষিকাজ—সবকিছুর একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা। তাই বর্ষার শুরুতেই নৌকা কেনা ও মেরামতের হিড়িক পড়ে যায়।

সরেজমিনে উপজেলার সগুনা, কুন্দইল, মাকড়শন, কাঁটাবাড়ি, বিন্নাবাড়ি, শ্যামপুর, নওগাঁ, ঘরগ্রাম, আমবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি নৌকা তৈরির কারখানায় চলছে কর্মচাঞ্চল্য।

সগুনা গ্রামের কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ জানান, কড়ই, হিজল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে অধিকাংশ নৌকা। কাঠ, আলকাতরা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি নতুন নৌকা বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষে ৪০ থেকে ৫০টি নৌকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

নৌকা কিনতে আসা আসলাম হোসেন বলেন, “পানি বাড়লেই নৌকা ছাড়া চলার উপায় নেই। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া কিংবা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাতায়াত—সবকিছুর জন্যই নৌকা দরকার।”
কারিগর জলিল আলী বলেন, “সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু বর্ষা এলেই ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিনই নতুন অর্ডার পাচ্ছি।”

চলনবিলে বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তাই আবারও ফিরে এসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকার কদর। বন্যার পানি যেমন জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে, তেমনি নৌকা কারিগরদের জীবিকায়ও বয়ে আনে নতুন সম্ভাবনার মৌসুম।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like

About the Author: priyoshomoy