

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে,সরকারি মালামাল আত্মসাত এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নষ্ট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে, অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত এক ছাত্রকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোপনে ভর্তি রেখে ওই ছাত্রকে অবৈধভাবে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বেসরকারি স্কুলের ছাত্র কীভাবে সরকারি স্কুলের বৃত্তি পায়?
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ মেজবাউল ইসলাম নামের এক ছাত্র ইতিপূর্বে আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫ম শ্রেণিতে (শাখা: চামেলী, রোল: ১৬৮) পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে সে ওই একই প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে (শাখা: কবরী, রোল: ১২৪) ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস করছে। একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন/স্কুলে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে অধ্যায়নরত থাকা সত্ত্বেও, পূর্ব রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নথিপত্র ব্যবহার করে তাকে ৫ম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি (সাধারণ গ্রেড) দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে এছাড়া এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পুষ্টিকর ডিম শিক্ষার্থীদের না দিয়ে আলমারিতে রেখে পচানোর অভিযোগ
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও একটি অমানবিক ও নিন্দনীয় অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের অংশ হিসেবে বা বিশেষ টিফিনে ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের তা না দিয়ে, ডিমগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্কুলের আলমারির ভেতর লুকিয়ে রাখেন। দুই-একদিন পর ডিমগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তিনি তা সময়মতো নিতে পারেননি। ফলে আলমারির ভেতরেই সব ডিম পচে নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়ালে পচা ডিমগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে স্কুলের পেছনে ফেলে দেওয়া হয়। শিশুদের পুষ্টির অধিকার এভাবে ক্ষুন্ন করায় অভিভাবকরা চরম ক্ষুব্ধ।
স্কুলের জানালা ও বাথরুমের মালামাল আত্মসাত
দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়। স্কুলের একটি বড় লোহার/কাঠের জানালা, যা বাথরুম সংস্কারের কাজের সময় খোলা হয়েছিল, সেটি প্রধান শিক্ষক সরকারি নিয়ম অমান্য করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আত্মসাত করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের যেকোনো আসবাবপত্র বা জিনিসপত্র সামান্য ভেঙে গেলে বা নষ্ট হলে, তা সরকারি বিধি মোতাবেক স্ক্র্যাপ হিসেবে জমা বা নিলাম না দিয়ে, প্রধান শিক্ষক কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন।
এইসব ধারাবাহিক অনিয়ম, জালিয়াতি এবং সরকারি সম্পদ চুরির বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

















