

হিরক খান :
আসন্ন দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। শুক্রবার বাদ জুমা দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব হয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে ঘিরে দারিয়াপুর ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন নির্বাচনী আমেজ। এরই মধ্যে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা সবচেয়ে আগে গুছিয়ে মাঠে নামায় ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দারিয়াপুর ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে প্রার্থী পরিচিতি ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমির, নায়েবে আমিরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থী এবং ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দোয়া করা হয়।
দোয়া অনুষ্ঠান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে “সৎ লোকের শাসন চাই, আল্লাহর আইন চাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন কর্মী-সমর্থকরা। পরে প্রার্থীরা ভাগ হয়ে নিজ নিজ ওয়ার্ডে গণসংযোগে নেমে পড়েন।
এ সময় জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, “দারিয়াপুর ইউনিয়নকে আমরা একটি মডেল, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চাই। বিগত দিনে ইউনিয়নবাসী যে সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, জনগণ সুযোগ দিলে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেব। কোনো ঘুষ, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের লড়াই দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে। আমরা ভোট চাইতে এসেছি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে।”
প্রচারণার প্রথম দিনে প্রার্থীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের প্রার্থীদের নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।
ইউনিয়নের একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে তারা যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর সততা ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করার মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের এক নেতা বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে সৎ ও সমাজসেবক ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছি। দারিয়াপুর ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থীরা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবে।”
উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই হাজীগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো দারিয়াপুর ইউনিয়নেও নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী অনেকটাই এগিয়ে থাকলো। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও খুব শীঘ্রই মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।

















