

সম্পাদকীয়
বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা বাজে, তখন ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে এ দেশের আনাচকানাচে যে উন্মাদনা তৈ রি হয়, তা’ সত্যি এক অভূতপূর্ব দৃশ্য| যদিও আমাদের নিজেদের দেশ এখনো বৈশ্বিক ফুটবলের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি; তবুও ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনার কোনো কমতি থাকে না| এ যেন এক সর্বজনীন উৎসব, যা’ প্রতি চার বছর পর পর এ দেশের আপামর জনসাধারণকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে|
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষের ˆদনন্দিন জীবনে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট রয়েছে| নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা কিংবা জীবনের নানা ব্যস্ততা আমাদের প্রতিনিয়ত ক্লান্ত করে তোলে| কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল যখন দরজায় কড়া নাড়ে, তখন সব গ্লানি ভুলে মানুষ মেতে ওঠে অনাবিল আনন্দে| পাড়ায় পাড়ায় প্রিয় দলের বিশাল পতাকা ওড়ানো, বন্ধুদের সাথে মিলে খেলা দেখার আয়োজন করা—এগুলো যেন জীবনের সব জটিলতাকে এক নিমেষে ভুলিয়ে দেয়| এ যে আনন্দ, এর কোনো কৃত্রিমতা নেই; এ এক বিশুদ্ধ আবেগ|

তবে এ আনন্দের পাশাপাশি আমাদের কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন| খেলাকে কেন্দ্র করে উগ্রতা কিংবা প্রিয় দলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে অহঙ্কারের প্রকাশ কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত কলহের জন্ম দেয়| কোনো কোনো জায়গায় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হতে দেখা যায়, তা’ মোটেও কাম্য নয়| খেলার মূল কথা হলো সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ| ফুটবল আমাদের মেলাতে শেখায়, বিভক্ত করতে নয়|
আমাদের দেশের শিশু ও তরুণরা যখন গভীর রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখে, তখন তাদের চোখেমুখে যে স্বপ্ন ফুটে ওঠে, তা’ ভীষণ ইতিবাচক| তারা শুধু খেলাই দেখে না; বরং বিশ্বমানের ফুটবলারদের কঠোর পরিশ্রম ও লড়াইয়ের গল্পগুলোকেও মনের ভেতর ধারণ করে| এ তরুণ প্রজন্মকে যদি আমরা সঠিক পরিকাঠামো দিতে পারি, তবে ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের দেশের ফুটবলও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারবে|
বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের জীবনে যে উৎসবের হাওয়া নিয়ে আসে, তা আমরা পুরোপুরি উপভোগ করব| সব সংকটের মধ্যদিয়েও এ আনন্দ আমাদের বেঁচে থাকার এবং মেতে ওঠার নতুন শক্তি যোগাক| ফুটবল হোক সম্প্রীতির প্রতীক, আর এর প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল স্বস্তি ও খোলামনে হাসার উপলক্ষ|












