পঞ্চগড়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে সদর উপজেলা সমাজসেবার মাধ‍্যমে ভ্যান বিতরণ

মো, এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :

ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভিক্ষুক পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পঞ্চগড়ে সাতজনের মাঝে ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপকারভোগীদের হাতে ভ্যানগুলো তুলে দেন সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমান।

ভ্যান পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা অন্যের ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। নিজেদের একটি ভ্যান পাওয়ায় এখন থেকে পরিশ্রম করে আয় করে পরিবার চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যতনপুকুরি এলাকার আলম হোসেন ভ্যান পেয়ে বলেন, “আগে নিজের কোনো উপার্জনের ব্যবস্থা ছিল না। মানুষের সহযোগিতা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে চলতে হয়েছে। এখন নিজের একটি ভ্যান পেয়েছি। এটি চালিয়ে পরিশ্রম করে আয় করতে চাই। সমাজসেবা অফিসের এই সহায়তা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি আর কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না।”

রাজারপাট ডাঙ্গর এলাকার মমিনুর হোসেন বলেন, “আমি আগে অন্য মানুষের ভ্যান চালাতাম। সারাদিন পরিশ্রম করেও নিজের কোনো সম্পদ ছিল না। ভ্যানের মালিককে ভাড়া দিয়ে যা থাকত, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতাম। এখন নিজের একটি ভ্যান পেয়েছি। এতে আমার অনেক সুবিধা হবে। নিজের মতো করে ভ্যান চালিয়ে আয় করতে পারব এবং পরিবারের খরচ চালাতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “এই ভ্যানটি আমার কাছে শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি আমার নতুনভাবে বাঁচার সুযোগ। আমি নিয়মিত পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।” জামুরিবাড়ি এলাকার মোতালেব হোসেন বলেন, “আমি আগে মানুষের কাছে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে চলতাম। খুব কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়েছে। ভিক্ষা করতে আমারও ভালো লাগত না, কিন্তু উপার্জনের অন্য কোনো পথ ছিল না। এখন সমাজসেবা অফিস থেকে ভ্যান পেয়েছি। এই ভ্যান চালিয়ে আয় করে সংসার চালাতে চাই। যাতে আর মানুষের কাছে হাত পাততে না হয়।”

তিনি বলেন, “আমার মতো যারা অসহায়, তাদের যদি এভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।” স্থানীয়রা বলছেন, ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে শুধু অর্থ সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বেশি কার্যকর। একটি ভ্যান একজন মানুষের জন্য যেমন আয়ের পথ তৈরি করতে পারে, তেমনি তাকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগও করে দেয়। সমাজসেবা বিভাগের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আরও অনেক অসহায় মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের করে এনে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলাই এ ধরনের সহায়তার মূল উদ্দেশ্য। যাদের ভ্যান দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে এটি কাজে লাগিয়ে নিয়মিত আয় করতে পারেন এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমান বলেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের করে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ভ্যানগুলো কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীরা নিয়মিত আয় করে স্বাবলম্বী হবেন বলে আশা করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মজিদ, এ্যাড. আদম সুফি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বাবু প্রমুখ।

প্রকাশিত :  ‍বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

You might like