পটিয়ায় ধরা চাঁদপুরের সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, নিখোঁজের নাটক ভেস্তে গেল

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের আলোচিত প্রতারক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে অবশেষে পরিবারসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আজ ২৮ আগস্ট, ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার চৌকস উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের একজন পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং আমানতের টাকা না দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি সপরিবারে পলাতক ছিলেন।

কীভাবে গ্রেফতার হলেন
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজছিল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ায় শনাক্ত করে।

এরপর এসআই কালাম গাজীর নেতৃত্বে একটি টিম গতকাল রাতেই চাঁদপুর থেকে রওনা হয়। আজ ভোর ৫টার দিকে পটিয়ার একটি বাসা থেকে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাদের চাঁদপুরে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, “পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি গ্রেফতার এড়াতে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এসআই কালাম গাজীর দক্ষতায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুজবের অবসান
পিন্টু দাসের আত্মগোপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ায়। তারা প্রচার করতে থাকে যে, “হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস স্বপরিবারে নিখোঁজ” এবং এর পেছনে সাম্প্রদায়িক কারণ রয়েছে বলে অপপ্রচার চালায়।

আজকের এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সেই গুজবের অবসান হলো। প্রমাণিত হলো যে এটি কোনো সাম্প্রদায়িক নিখোঁজের ঘটনা নয়, বরং প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত একজন ব্যবসায়ীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা।

এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যে সব ব্যক্তি না জেনে সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছিলেন, তারা এখন কী বলবেন? একটি সাধারণ প্রতারণার মামলাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে যারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই সফল অভিযানের জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ এবং এসআই কালাম গাজীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছে, সেই সব ভন্ড ও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুজব ছড়ানোর সাহস না পায়।

প্রকাশিত :  ‍শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy