ফরিদগঞ্জে ফোন দিলেই বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ওরা ২১ জন

আনিছুর রহমান সুজন :
ফরিদগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে বাড়ি বাড়ি নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছু পৌঁছে দিচ্ছেন ওরা ২১ জন। ২১ সদস্য নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের প্রতিদিনের বাজার পৌঁছে দিচ্ছে ওরা।

শুধু তাই নয়, কারো জরুরি ঔষধের প্রয়োজন হলেও বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল দিয়ে তারা দ্রুত তার হাতে তুলে দিচ্ছে। ফরিদগঞ্জ পৌরএলাকার প্রায় অর্ধলাখ মানুষের জন্যে নাম দেয়া হয়েছে ‘বাজার যাবে বাড়ি’ নামে এ সেবা চালু করে তারা।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল ২৯ দিনের জন্যে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে জনগণকে ঘরে থাকার জন্যে নিদের্শনা দেয়। জনগণ যাতে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি থেকে বের না হয় সে লক্ষ্যে ‘ঘরের মানুষ ঘরে রবে ঔষধ-বাজার পৌঁছে যাবে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বাজার বাড়ি’ নাম দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে স্বেচ্ছাসেবক ২১ জন সদস্য। তারা তাদের ফেসবুক পেইজে ‘বাজার বাড়ি’তে মুঠোফোন নাম্বার দিয়ে লোকজনকে যোগাযোগ করতে বলে।

/
এতে ঘর থেকে বের না হওয়া অনেকের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। তারা মুঠোফোনে তার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কথা বললে লেখক ফোরামের এই ২১ সদস্য ৫টি মোটরসাইকেল ও ১০টি বাইসাইকেল দিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে বাজার ও ঔষধসামগ্রী। বিনিময়ে নিচ্ছে না কিছুই। দুর্যোগের সময় এ মহতী কাজ করছে তারা।

ওরা ২১ জন হলো : রাসেল হাসান, জিয়াউর রহমান, গিয়াস উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মামুন হোসেন, মেহেদী হাসান মুন্না, তানজিল ইসলাম রনি, ইব্রাহিম খলিল, আশরাফুল ইসলাম আবির, জাহিদুল ইসলাম রাসেল, শামীম হাসান, মহসিন আহমেদ আলিফ, পিয়াস চন্দ্র দাস, মাহমুদুল হাসান সম্রাট, আজহারুল ইসলাম সাকিব, আওলাদ মৃধা, কাওছার হোসেন, মাহমুদ জিহাম, দেলোয়ার হোসেন, ফরিদুল ইসলাম ও মাসুদুল আমিন পিয়াম।

এ ব্যাপারে ‘বাজার বাড়ি’র উদ্যোক্তা রাসেল হাসান জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৫৩ জন, একমাস পর অর্থাৎ ২৮ মার্চ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজারে। জার্মানী একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের দুরবস্থা। আমাদের দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়লে কী হবে ভেবে পাচ্ছি না। তাই আমাদের চিন্তা আমরা যদি অর্ধ লাখ মানুষেকে খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিরাপদ রাখতে পারি, এর চেয়ে সুখের কী আছে। দেশের দুর্যোগের এ সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য। তাই আমরা ২১ জন স্বেচ্ছাশ্রমে বাড়ি বাড়ি লোকজনকে বাজার ও ঔষধ পৌঁছে দিচ্ছি। কোন যাতায়েত ভাড়া দিতে হয় না , শুধু পণ্যের দাম দিলেই হয়।

You might like