

মেহেদী হাসান রাসেল, টাঙ্গাইল (সখিপুর) প্রতিনিধি :
সখিপুর উপজেলা কাকড়াজান ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মহানন্দপুর বাজার থেকে ৭নং ওয়ার্ডের দূর্গাপুর বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার রাস্তা কাদায় কারণে হেঁটে চলাচল করা কঠিন।
রাস্তা পাকা করার দাবিতে এলাকার বেশ কয়েকজন তরুণ ধানের চারা রোপণ করেন। লাল মাটি দিয়ে ভরাট করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এই তিন কিলোমিটার রাস্তা কাদায় ভরে যায় । এই সময় এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচল করা যায় না । বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ে । এলাকাবাসী এই তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার দাবিতে অনেক আগে থেকেই জানাচ্ছেন। কিন্তু এ রাস্তা পাকা করনের জন্য কোন পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না।
এ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দূর্গাপুর বাজার থেকে মহানন্দপুর বাজার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় কিছু তরুণ ও কৃষক মিলে কাঁচা সড়কে ধানের চারা রোপণ করেন।

এ বিষয়ে জানিতে চাইলে কাকড়াজান ইউনিয়নের পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন মেম্বার অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় সময়কে জানান, আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে মহানন্দপুর বাজারের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা,এই রাস্তাটি প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরনো রাস্তা।এই রাস্তাটিই আমার এলাকার একটি মাত্র রাস্তা যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক অনেক কষ্টে ও দুর্ভোগ পার করে সখিপুর যেতে হয়। আর আমার এলাকাটি একটি কৃষি প্রধান এলাকা, প্রয়োজনীয় রাস্তা ঘাট না থাকার কারণে আমার এলাকার কৃষক তাদের কৃষি পন্যের সঠিক ন্যায মূল্য পায় না।ঢাকা থেকে কোন ক্রেতা আসিতে পারে না কৃষি পন্য কিনার জন্য। ৪ বছর ধরে আমি নির্বাচিত হয়েছি, আমি এই রাস্তায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কয়েকবার মাটির কাজ করে উন্নয়ন করা হয়েছে ।
এলাকার বেশ কয়েকজন লোকের উপস্থিতে নাম না প্রকাশ করা এক লোক বলেন, তবে বর্ষা এলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না । আমাদের গ্রামে প্রায় ২০০-৩৫০ টি মোটরসাইকেল রয়েছে । বর্ষা মৌসুমে এগুলো ঘর বন্দী করে রাখা হয়। এলাকার উন্নয়ন করার স্বর্থে আমার এলাকা বাসী কিছু তরুন প্রজন্ম মিলে রাস্তা পাকা করার দাবিতে কিছু অংশে ধান রোপন করছে । কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়েছে।
কয়েক জন পল্লী চিকিৎসক ও কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি বা তারা জানায়,প্রতিদিন আমাদের সকালে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে পরনের কাপড় উচু করে তিন কিলোমিটার হেঁটে দোকান করতে যেতে হয় । আবার রাতে একই কায়দায় বাড়ীতে ফিরে আসতে হয় । এই রাস্তাদিয়ে ইমারজেন্সি কোন রোগীকে সময়মতো হসপিটাল নেওয়া সম্ভব হয় না। এর জন্য অনেক রোগী হসপিটালের নেওয়ার আগেই মারা যান ।
১নং কাকড়াজান ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ও ৯নাম্বার ওয়ার্ডের সংযুক্ত সড়কের এই তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা না থাকার কারণে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে যাতায়াত করে । সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে তারা যেতে পারে না অনেক সময় তাদের পরনে কাপড় কাদায় নষ্ট হয়ে যায় অনেকেই পিছলে পড়ে যায়,এর জন্য জামা কাপড় চেঞ্জ করে আবার যেতে যেতে অনেক সময় লেট হয়ে যায় । এভাবে আর কতদিন,, ?
এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদকে অনুরোধ করেন এলাকাবাসী।
০১ আগস্ট ২০২০ খ্রি. ১৭ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ মুহররম ১৪৪২ হিজরি, মঙ্গলবার









