

জিল্লুর রহমান :
বর্ষার পানি আসতেই দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল অঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র গো-খাদ্য সংকট। তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি ও ঘাসের জমি। ফলে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা। নিরুপায় হয়ে অনেক এলাকার কৃষকদের তাদের ক্ষুধার্ত গবাদিপশু নিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে কচুরিপানা ও তলিয়ে যাওয়া ঘাস খাওয়াতে দেখা যাচ্ছে।

পানির নিচে মাঠঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চারণভূমির সম্পূর্ণ অভাব দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের দামও বাজারে আকাশছোঁয়া, যা সাধারণ কৃষকদের নাগালের বাইরে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলনবিলে বর্ষার পানি আসতে শুরু হওয়ায় মাঠের সব ঘাস তলিয়ে যাচ্ছে । বাজারে খড় আর ভূষির যে দাম, তাতে কিনে খাওয়ানো আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন গরুর পাল নিয়ে হাঁটু পানিতে নামতে হচ্ছে। পানির নিচে থাকা ঘাস আর কচুরিপানা খাইয়ে কোনোমতে পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।
তারা আরও জানান, কাঁচা ঘাসের অভাবে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং গাভীগুলোর দুধ উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দেবেন বলে আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল এলাকায় চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে গো-খাদ্যের কিছুটা সংকট তৈরি হয়। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের খড় সংরক্ষণ করা এবং এই সময়ে সাইলেজ (সংরক্ষিত ঘাস) ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া, পানিতে ভেজা বা পচা ঘাস খাওয়ালে গবাদিপশুর বিভিন্ন পেটের পীড়া ও ক্ষুররোগ হতে পারে। তাই খামারিদের সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যা ও দুর্যোগকালীন সময়ে গবাদিপশুর সুরক্ষায় খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে এই সংকটেও পশুর বড় কোনো ক্ষতি না হয়।

















