

পঞ্চগড়ে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির মাঠ পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব
মোঃ এনামুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পঞ্চগড় জেলায় মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মো. হাতেম আলী। শনিবার (১১ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি মাঠ পরিদর্শন করে তিনি প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, ফসলের অবস্থা এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি প্রণোদনার আওতায় চাষাবাদকৃত হলুদ, পাট, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ কন্দ ও আউশ ধানের মাঠ ঘুরে দেখেন। এ সময় কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি সহায়তার সুফল, চাষাবাদের অগ্রগতি এবং মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল কাদের বলেন, সরকারের দেওয়া বীজ ও কৃষি উপকরণ পেয়ে এবার সময়মতো আবাদ করতে পেরেছি। এতে আমাদের খরচ অনেক কমেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে পরামর্শ দেওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।
একই ইউনিয়নের কৃষক জুলফিকার ইসলাম জনি বলেন, আমন ধানের বীজ আরও এক মাস আগে বিতরণ করা হলে কৃষকরা সময়মতো আবাদ করতে সুবিধা পেতেন। এছাড়া আমাদের ইউনিয়নে সরকারি সার বিক্রির কেন্দ্র একাধিক স্থানে করা হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রয়োজনীয় সার সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
একই ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজাদ বলেন, সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এখন বীজ ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহে আগের মতো সমস্যায় পড়তে হয় না। তবে এলাকায় একটি কৃষি হিমাগার স্থাপন এবং বরেন্দ্র সেচ ব্যবস্থা চালু করা হলে কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, প্রণোদনার আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার কারণে মাঠের ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক এবং কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহও বাড়ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমছে এবং অধিক জমি আবাদে আসছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে উপসচিব ডা. মো. হাতেম আলী বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে এবং কৃষকরা সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারেন, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) বাসুদেব রায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অর্জুন চন্দ্র রায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খুরশিদা জাহান কাকলী, হাফিজাবাদ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মার্জিয়া ফাতিমা, মো. মতিউর রহমানসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

















