দোহার পৌর মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

মাকসুমুল মুকিম, দোহার -নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :

আসন্ন ২৭ই জুলাই( বুধবার) ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচন সুষ্ঠ ও প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৪ মেয়র প্রার্থী। ২১ জুলাই আজ বৃহস্পতিবার বিকালে দোহার পৌর ৪ মেয়র প্রার্থীগণ একত্রিত হয়ে মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুলের নিজ বাড়ির উঠানে এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ দোহার পৌরসভা নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করছেন। কিন্তু তার নাম ভাঙ্গিয়ে দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন নিরোপেক্ষ না থেকে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে পৌর সভা নির্বাচন সহ সালমান এফ রহমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তারা।

এসময় মেয়র প্রার্থীগণ অভিযোগ করে বলেন, সালমান এফ রহমান আমাদের অভিভাবক। তিনি নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করার জন্য বদ্ধ পরিকর। সেখানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আলমগীর হোসেন তিনি কোন নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন না করে সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থী আলমাছ উদ্দিনের পক্ষে কাজ করছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, প্রার্থীগন বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন আলমগীর হোসেন আলমাছ উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করার জন্য নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে একটি শপথ বাক্য পাঠ করান। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসময় মেয়র প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহমান আকন্দ ও জামাল বেপারী উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আলমগীর আগে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলো। সালমান এফ রহমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুবাদে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি ২টাকার টোকেনে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। বর্তমানে তিনি দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।

তিনি আরোও বলেন, এতো বড় দায়িত্বে থাকার পরেও তিনি কেন একক প্রার্থীকে সমর্থন করছেন, যেখানে আওয়ামীলীগের ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

মেয়র প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আলমগীর আমাদের নেতা কর্মী ও সমর্থকদের টাকা ও আওয়ামী লীগের পদের লোভ দেখিয়ে নির্বাচনকে বাধা গ্রস্ত করছেন।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী আব্দুর রহমান আকন্দ বলেন, আলমগীর হোসেন গত ৬ জুলাই দোহার পৌর সভার বাজেট অধিবেশনে তার বক্তব্যে মেয়র প্রার্থী আলমাছ উদ্দিনের সরাসরি পক্ষে নেন। যা আমরা আমাদের সাংসদকে জানালে তিনি তাকে সতর্ক করেন। কিন্ত এর পরেও আলমগীর হোসেন তার একপেক্ষি কার্যক্রম চালিয়ে জানাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে উপজেলার বেগম আয়শা শপিং মলে আয়োজিত নির্বাচনী বৈঠকে মেয়র প্রার্থী আলমাছ উদ্দিনের পক্ষে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের শপথ করানো হয়। যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তবে প্রশাসন নিরোপেক্ষ ভুমিকা পালন করছেন।

অপর দিকে আসন্ন দোহার উপজেলা পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন এর বিরোদ্ধে একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণা করার অভিযোগে মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল, মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন ও আব্দুল রহমান আকন্দ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনকে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন

আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে চার জন মেয়র প্রার্থী সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতি আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। এই চারজন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছে। যা সম্পূর্ণ অসত্য, যা তথ্য পরিবেশনের শামিল।

তিনি আরোও বলেন, দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি বলেন, তারা যেসকল অভিযোগ করেছেন তা একেবারে ভিত্তিহীন। এই নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন হবে। এখানে কোন দল বা ব্যক্তি কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না। সেই সাথে তিনি আলমাছ উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছি স্বীকার করে বলেন, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে এমন কিছু নেই যে আমি কোন ব্যক্তিকে সাপোর্ট করতে পারবো না। আমি সকল নিয়মকানুন মেনে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, যদি আমি কোন প্রভাব বিস্তার করি বা নির্বাচনের অচরণবিধি লঙ্ঘণ করি তবে আমার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে আমি তার জবাব দেব।

এই নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন তাই আমি দলের সভাপতি হিসেবে এই নির্বাচনে প্রার্থীদের ভেতর থেকে যারা আওয়ামী লীগ করেন তাদের মধ্যে থেকে যেকোন একজন প্রার্থীকে আমি সমর্থন দিতেই পারি। আর দলীয় ভাবে এতে আমার কোন বাধা নাই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এইটা বৈধ এবং বৈধ ভাবেই আমি আলমাছ কমিশনারকে সমর্থন জানিয়েছি।

তিনি আরোও বলেন, এই নির্বাচন শতভাগ সফল একটি নির্বাচন হবে বাংলাদেশে এবং সমস্ত বাংলাদেশ দেখবে দোহার পৌরসভা নির্বাচন জনগনের অংশ গ্রহনের মাধম্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগন তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করবে বলে তিনি জানান।
দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় তিনি বলেন, তারা যেসকল অভিযোগ করেছেন তা একেবারে ভিত্তিহীন। এই নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন হবে। এখানে কোন দল বা ব্যক্তি কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না। সেই সাথে তিনি আলমাছ উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছি স্বীকার করে বলেন, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে এমন কিছু নেই যে আমি কোন ব্যক্তিকে সাপোর্ট করতে পারবো না। আমি সকল নিয়মকানুন মেনে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, যদি আমি কোন প্রভাব বিস্তার করি বা নির্বাচনের অচরণবিধি লঙ্ঘণ করি তবে আমার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে আমি তার জবাব দেব।

You might like