মেঘনার ভাঙনে ছোট হচ্ছে হাইমচরের মানচিত্র

শরীফ মোঃ মাছুম বিল্লাহ :

হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র। নদীর তীরবর্তী এলাকা নীলকমল, হাইমচর ও গাজীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হাইমচর ইউনিয়নের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। যে ইউনিয়নের নামে উপজেলার নামকরণ হয়েছে, সেটি এখন বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে গিয়ে নদী গর্ভে বিলীন।

মেঘনার ভাঙনে প্রতিবছর হাইমচরের চরাঞ্চলের শত শত বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অস্তিত্বহীনতায় ভুগতে হচ্ছে হাজারো নিরীহ পরিবারের। ক্রমশই তারা চাষাবাদ, পশুপালন, ফসলি জমি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে হাইমচর উপজেলার নীল কমল ইউনিয়নবাসী। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাঝেমধ্যে ভাঙনকবলিত স্থানে বালুভর্তি জিইও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হলেও তা তেমন কাজে আসছে না ভাঙন প্রতিরোধে। ফলে দিন দিন ভাঙনে ছোট হয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো।

নীল কমল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, হাইমচরের মেঘনা নদীর পশ্চিমে নীলকমল ইউনিয়নে প্রতিবছর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কয়েক হাজার পরিবার। এখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মসজিদ, একটি বড় বাজার ও ছয়টি মৎস্য আড়ত রয়েছে। স্থায়ী বাঁধ না হলে যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে নীল কমল ইউনিয়নটি।

শিক্ষার্থী শাহ আলম ও মোরশেদা খাতুন বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষক চরে থাকতে চান না। ফলে ভালো শিক্ষক পাওয়া এখানে ভাগ্যের বিষয়। তা ছাড়া বিদ্যালয়ের পাশেই নদী ভাঙছে। দিন দিন চরের মাটি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টি নদীতে চলে গেলে কীভাবে পড়াশোনা করবে এখানকার শিক্ষার্থীরা।

নীলকমল ইউনিয়নের বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, ‘নদীর ওই পাড়ে কত সুন্দর বাঁধ হইছে। কিন্তু এই চরে কোনো বাঁধের ব্যবস্থা নেই। বারবার নদী ঘরবাড়ি ভাঙছে। নতুন করে বাড়ি বানানোর কয়দিন পর আবার ভেঙে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখানে সবাই চিন্তিত। ভাঙন আতঙ্কে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে আমাদের।

হাইমচর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা বশির পাইক বলেন, আগে হাইমচর নামে একটা ইউনিয়ন ছিল, সেটা এখন বিলুপ্তির পথে। নদীভাঙনে এখন একেবারেই ছোট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় হাইমচরের মাটি থেকে এ ইউনিয়নটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বর্ষা মৌসুম আসলেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে আমাদের। জানি না কোনো দিন স্থায়ী বাঁধ হবে কি না। শেষ রক্ষা হবে কি-না আমাদের।

হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি জুলহাস সরকার বলেন, হাইমচর ইউনিয়নটির চারপাশে নদী। ভাঙনে একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ ইউনিয়ন-ই নদী গর্ভে বিলীন। এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা নীল কমল, চরভৈরবী ইউনিয়ন সহ যে যেখানে পারছে বসতঘর নির্মাণ করে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে যারা হাইমচর ইউনিয়নে আছে যেকোনো সময় তাঁদেরও পাড়ি জমাতে হবে অন্য কোথাও।

নীল কমল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সউদ আল নাছের দৈনিক শপথকে জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী যৌবন ফিরে পায়। এসময় ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে ভাঙন শুরু হয়। মেঘনার করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তীব্র ভাঙনের ফলে নীল কমল ইউনিয়ন হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, খুব শীগ্রই হতে পারে আমার বসত বাড়িটিও মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নদী খুবই কাছাকাছি চলে আসছে। এমতাবস্থায় আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাননীয় সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ডা. দিপু মনিকে বিষয়টি অবগত করেছি।

নীল কমল ইউনিয়নের জন্য কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, খুব শীগ্রই তা বাস্তবায়িত হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে চরাঞ্চলে ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সহযোগিতায় কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

প্রকাশিত : মঙ্গল বার,  ০৪  জুন ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

You might like